বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

আমরা ভেনিজুয়েলা না : যুক্তরাষ্ট্রকে কাদের

| প্রকাশিতঃ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ২:৪৫ অপরাহ্ন


ঢাকা : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আফ্রিকা-ইসরায়েল দেখেন, বাংলাদেশ নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই।’ আজ বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির প্রথম সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আফ্রিকায় কদিন পর পর বিদ্রোহ হয়, সেটা থামাতে পারেন না। দুষ্টু ছেলে ইসরায়েলকে থামাতে পারেন না। নেতানিয়াহু তো কথা শুনে না। আমাদের নির্বাচন নিয়ে এত মাথা ঘামানো কেন? যুদ্ধ থামান, বড় বড় সংকট দেখেন, আমাদের নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই। আমরা তো পরাশক্তি হতে চাই না। আবার আমরা ভেনিজুয়েলাও না।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করব। আমরা যা করব, পরিপূর্ণভাবেই সংবিধান ফলো করেই করব৷ দুনিয়ার অন্যান্য দেশের যেভাবে হয়, সেভাবেই হবে। কে এলো কে এলো না, এটা আমাদের দেখার বিষয় না। কে নিষেধাজ্ঞা দিল, সেটাও আমাদের হেডেক না। আমরা তো নির্বাচন করব, নিষেধাজ্ঞা আমাদের জন্য নয়, যারা বাধা দেবে, তাদের নিষেধাজ্ঞা দেন।’

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মন্ত্রীসভা নির্বাচনকালীন ছোট কি বড় হবে এটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি চাইলে, গতবারের মতো যেভাবে আছে সেভাবেও থাকতে পারে। এটাতে আমাদের কারও কিছু করার নেই। সেই মন্ত্রীসভার কার্যক্রম হবে, রুটিন ওয়ার্ক। মেজর কোনো পলিসি ডিসিশন নেবে না।’

বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা আব্বাস চাঁদ রাত দেখেছেন। কী দেখেছেন, ঝিনাইদহে কয়েকজন মানুষ দেখেছে। ফখরুল বলেছে, অক্টোবরে নাকি আমাদের চলে যেতে হবে। আমি বলেছি, এই অক্টোবরে আছি, আগামী অক্টোবরেও থাকব। জনগণ আমাদের চায়। একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী সংকটে শক্ত হাতে হাল ধরে আছেন, কেন তাকে ছেড়ে দিতে হবে? তার বিকল্প ভাবেন। শেখ হাসিনার বিকল্প আছে কী? সেটি ভাবতে হবে, সেই আলোকে ইশতেহার সাজাতে হবে।’

ইশতেহার নিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ইশতেহার পড়ে কজন? সেটা খেয়াল রেখে করতে হবে। বুলেট পয়েন্ট দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আনতে হবে। ঢাউস কিতাব বা বিশাল বই পড়ার সময় কারও নেই। সময়ের সঙ্গে বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে। সামনে কঠিন সময় জুই ফুলের গান গেয়ে লাভ নাই।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে শেখ হাসিনাকে ফের ক্ষমতায় আনতে হবে৷ বিএনপি আসলে গণতন্ত্র থাকবে না। একশনমুখী ইশতেহার লাগবে। যেমন কুকুর তেমন মুগুর স্টাইলে ইশতেহার করেন। ক্লাইমেট চেইঞ্জ এর বিষয়ে সামনে রাখতে হবে। ২০২৬ এবং ২০৪০ সাল মাথায় রাখতে হবে। ডিজিটাল হয়ে গেছে, এখন মাথায় স্মার্ট বাংলাদেশ। কীভাবে সর্বত্র স্মার্ট করা যায়, সেটা ভাবতে হবে।’

শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে মন্ত্রী বলেন, ‘৭৭ বছরেও তার গতি দেখলে মনে হয়, গতিতে তিনি সত্যিকারার্থে এরাবিয়ান হর্স। শেখ হাসিনা আল্লাহর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ।’

এই সভায় নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক ড. আব্দুর রাজ্জাক, সদস্যসচিব ড. সেলিম মাহমুদ, সদস্য অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক, অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ড. শামসুল আলম, ডা. দীপু মনি, শ ম রেজাউল করিম, অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, অধ্যাপক খায়রুল হোসেন, শেখর দত্ত, ওয়াসিকা আয়েশা খান, বিপ্লব বড়ুয়া, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, তারানা হালিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, সাজ্জাদুল হাসান, অধ্যাপক মাকসুদ কামাল, জোনায়েদ আহমেদ পলক, সাদিকুর রহমান চৌধুরী, সায়েম খান, সাব্বির আহমেদ অংশ নেন।

ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মূল ফোকাস শিল্পখাত। ছোট শিল্প প্রসারের পাশাপাশি ভরি শিল্পের দিকেও যেতে হবে। কৃষিতে ভর্তুকি থাকবে। সেবা খাতকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্ব দিবো। সকল ধর্ম বর্ণের মানুষের এমনকি হিজড়াদেরও মৌলিক অধিকার পূরণ করা হবে।