
ঢাকা : আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে সামনে রেখে ‘নির্বাচনে যাওয়া কিংবা না যাওয়ার’ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নিজেদের কৌশল নির্ধারণের বিষয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইসলামপন্থী দলগুলো। করণীয় নির্ধারণে দলের অভ্যন্তরে নিজেদের মধ্যে এবং বাইরে অন্যদের সাথে আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে এসব দলের নেতারা।
এদিকে ইসলামী আন্দোলন শুক্রবার (৩ নভেম্বর) ঢাকায় এক মহাসমাবেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা ছাড়ার জন্য সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে এবং একই সঙ্গে দলটি বিরোধী দল বিএনপির চলমান আন্দোলন কর্মসূচিকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে।
‘সরকার দাবি না নিলে আন্দোলনরত বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবো। ২০১৪ ও ১৮ সালের মতো নির্বাচন মানুষ হতে দেবে না,’ মহাসমাবেশে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
একই সঙ্গে তিনি আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে সরকারকে পদত্যাগ করে সব নিবন্ধিত ও প্রতিনিধিত্বশীল আন্দোলনরত দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিএনপিসহ আটক সব নেতাকে মুক্তি দিয়ে জাতীয় সংলাপের জন্য রাষ্ট্রপতিকে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আরও কয়েকটি ইসলামপন্থী দল ইঙ্গিত দিয়েছে, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পরপরই তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে যে প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন- সেটিই অব্যাহত থাকলে এসব দল শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে নাও যেতে পারে।
বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী ছাড়া আর যে কয়টি ইসলামি দলের তৎপরতা বেশি দেখা যায় তার মধ্যে ইসলামী আন্দোলন একটি। ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করলেও ২০০৮ সালে ১৬৬ প্রার্থী নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল দলটি।
সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে সম্প্রতি বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধে জড়িয়ে পড়া এই দলটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি নির্বাচনে অংশ নিয়েও আলোচনায় এসেছিল।