বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

সরকারকে চাপে রেখে তফসিল ঠেকানোই বিএনপির চ্যালেঞ্জ

| প্রকাশিতঃ ৬ নভেম্বর ২০২৩ | ২:২৩ অপরাহ্ন


ঢাকা : শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার কিংবা নতুন মামলা জটিলতার মতো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও রাজপথে সরব দলটির মাঠের বিএনপি নেতারা। বিএনপি এখানো আশাবাদী- নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই আসবে সফলতা। ‘এক দফা দাবি’ আদায়ে তাই তফসিল ঘোষণার আগে পরে কর্মসূচি তীব্রতর করতে চায় বিএনপির হাইকমান্ড।

বিএনপির সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন, চলমান অবরোধ কর্মসূচিতে মাঝে মধ্যে দুয়েকদিন বিরতি দিয়ে ফের আসবে অবরোধ কর্মসূচি। তফসিল ঠেকাতে টানা অবরোধের পাশাপাশি হরতাল দেয়া হবে। এই ধারাবাহিকতায় চলমান ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ শেষে আজ নতুন কর্মসূচি আসবে। আগামীকাল মঙ্গলবার বিরতি দিয়ে আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার হরতাল কিংবা অবরোধ দিতে পারে দলটি।

এই মূহর্তে সরকারকে চাপে রেখে তফসিল ঠেকানোই চ্যালেঞ্জ মন্তব্য করে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য- ‘তফসিল ঘোষণার বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকার জনগণের ইচ্ছার কাছে মাথানত না করা পর্যন্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলন চলবে। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিজয় না আসা পর্যন্ত এক দফার আন্দোলন চলবে। বর্তমান সরকারের পদত্যাগসহ নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থা বাস্তবায়ন ছাড়া জনগণ রাজপথ ছাড়বে না।

তবে একটানা অবরোধ কর্মসূচির সফলে বেশখানিকটা শঙ্কাও কাজ করছে বিএনপির নেতাদের মধ্যে। তারা মনে করছেন, চলমান অবরোধ কর্মসূটিতে সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ রয়েছে। কিন্তু অবরোধের মতো কর্মসূচি দীর্ঘসময় ধরে চললে একসময় তা অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং দলও জনগণের সহানুভূতি হারাতে পারে। সুতরাং তারা এখন আন্দোলনে নতুন কিছু কর্মসূচির পরিকল্পনা করছেন।

পালাক্রমে অবরোধ চলবে : কারাগারের বাইরে থাকা স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে সমন্বয় করে আন্দোলন চালাচ্ছেন। প্রতিদিনই তারা বৈঠক করছেন। নতুন কর্মসূচির বিষয়ে গত দুই দিন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছে। সেখানে অবরোধ রেখে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ভবন ঘেরাও, অবস্থান ও অসহযোগ আন্দোলনের মতো বিষয়ে প্রস্তাব এসেছে। তবে বেশির ভাগ নেতা অসহযোগের মতো কর্মসূচিকে উপযুক্ত মনে করছেন না। বৈঠকে অবরোধে মিছিলের পাশাপাশি পিকেটিং বাড়াতে জোর দেয়ার পাশাপাশি গ্রেপ্তার এড়িয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, তৃণমূলের নেতাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বৈঠকে সাংগঠনিক নেতারা বলেছেন, গত ২৮ অক্টোবর উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পরে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির আরো দুই নেতাসহ দলের অসংখ্য নেতাকর্মী গ্রেপ্তারের ঘটনার পর কঠোর কর্মসূচির বিকল্প নেই। জানতে চাইলে

চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম বলেন, আমরা কোনোভাবেই এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাব না। সরকারপক্ষ থেকে যতই চাপ আসুক; আমরা পিছপা হব না। অবরোধ শেষে সামনের সপ্তাহে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। তার ভাষ্য- পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে তাতে সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরো চাপের মুখে পড়বে।

বিএনপির শীর্ষ নেতারা সবাই গ্রেপ্তার হলে আন্দোলন কীভাবে পরিচালিত হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের বাইরে থাকলেও তিনিই মূলত আন্দোলনের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। তার সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের যোগাযোগ আছে। আর আমাদের এখানে কয়জন নেতাকে গ্রেপ্তার করবে? কোন পর্যায়ে কখন কার কী কাজ হবে তা ঠিক করা আছে।