
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে হত্যার হুমকি দিয়ে বক্তব্য দেওয়া কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ফরিদুল আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে, এই গ্রেপ্তার পিটার হাসকে হুমকির কারণে নয়, বরং ‘নিয়মিত মামলায়’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহেশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রতুল কুমার শীল।
শুক্রবার (২৩ মে) গভীর রাতে মহেশখালী থানা পুলিশের একটি দল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে হোয়ানক এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদুল আলম, মিজ্জিরপাড়া থেকে আহমুদুর রহমান, শ্রমিক লীগ নেতা মিজানুর রহমান এবং মাতারবাড়ীর তিতামাঝি পাড়া থেকে মুহাম্মদ সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের সবাইকে নিয়মিত মামলার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পরদিন (শনিবার) সকালে চারজনকেই আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ফরিদুল আলমের ওই বক্তব্য তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে দেশি-বিদেশি নানা মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মন্তব্য করেছেন, ক্ষমতার বলয়ে থাকা অবস্থায় এ ধরনের হুমকি তার রাজনৈতিক চরিত্রের একটি দিক উন্মোচন করেছিল।
এর আগে ২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের এক কর্মী সমাবেশে ফরিদুল আলম রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেছিলেন, “আপনারা জানেন, বাংলাদেশে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। কী একটা পাতি হাঁস আসছে। পিটার হাস বদমাইশ। সে বিএনপির হয়ে যে অসভ্য কাজকারবারগুলো বাংলাদেশে করছে, তাকে পেলে জবাই করে মানুষকে খাওয়াইতাম।” তার এই বক্তব্যের সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের হাততালি দিয়ে উল্লাস করতে দেখা গিয়েছিল।
ওই বছরের ১৫ নভেম্বর বক্তব্যের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র নিন্দার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সাংবাদিকদের তথ্যমতে, বক্তব্যটি প্রচারের আগে ফরিদুল আলমের পক্ষ থেকে একাধিক সাংবাদিককে প্রভাবিত করার চেষ্টাও করা হয়েছিল। ভিডিওটি প্রকাশের পর সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরে আসে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ফরিদুল আলমের বিষয়ে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদুল আলমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার, দখলবাজি, প্রতিপক্ষকে দমনে পুলিশের ব্যবহার এবং ঠিকাদারি সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং একাধিকবার সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখল করেছেন। এছাড়া, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে থানায় মামলার তদন্ত প্রভাবিত করা, আদালতে প্রভাব বিস্তার এবং সরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের মতো অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে অতীতে প্রশাসনিকভাবে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে স্থানীয়রা জানান।