বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী খুনে জড়িতরা সণাক্ত

| প্রকাশিতঃ ৪ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১১:১১ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের পরিবহন ব্যবসায়ী ও যুবদল নেতা মো. হারুন রশিদ চৌধুরী খুনের ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত করেছে পুলিশ। তবে সোমবার পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ খুনের প্রতিবাদ এবং খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে কদমতলী এবং মাদারবাড়ি এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্টান এবং পণ্য পরিবহণ থেকে সোমবার বিরত থেকেছে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কিছুদিন ধরে এক যুবলীগ নেতা শুভপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওই এলাকার ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিকে ঘিরে চাঁদাবাজির চেষ্টা করছেন। কিন্তু ওই যুবলীগ নেতার এ কাজের বাঁধা হয়ে দাঁড়ান হারুন। এ নিয়ে গত মাসে হারুনের সাথে ওই নেতার প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হয়। পরবর্তিতে এ ঘটনা থানা পর্যন্ত গড়ায়। হত্যার নেপথ্যে এই ঘটনার সংশ্লিষ্টতা পাচ্ছে পুলিশ।

কোতোয়ালী জোনের সহকারি কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় খুন হয়েছে এমন অভিযোগ হারুনের পরিবার আমাদের করেছে। আমরা তা তদন্ত করছি। এছাড়া ব্যবসায়ীক এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে হারুন খুন হয়েছে কি না তাও তদন্ত করছি। তবে এটা ঠিক, ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন কিছু মানুষের নাম আমরা পেয়ে গেছি। সোমবার বিকেলে নিহত হারুনের দাফন হয়েছে। রাতের মধ্যে তার পরিবারের কেউ থানায় এসে মামলা করবেন বলে আমাদেরকে জানিয়েছেন।

এদিকে নিহত হারুনের বড় ভাই হুমায়ন চৌধুরী বলেন, হারুনের শাহনাজ ট্রান্সপোর্ট নামে একটি প্রতিষ্টান রয়েছে। এ প্রতিষ্টানের অধীনে রয়েছে অর্ধশতাধিক ট্রাক। গত মাসে স্থানীয় কিছু চাঁদাবাজ আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্টানে চাঁদা চাইতে আসে। তখন হারুন এ চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করেছিল। এ কারণেই সে খুন হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কয়েকদিন আগে নিহত হারুনের সাথে স্থানীয় একটি বিষয় নিয়ে এক যুবলীগ নেতার সমস্যা হয়েছিল। পরবর্তিতে তা সমাধানও হয়ে যায়। ওই দ্বন্দ্ব থেকে এ হত্যাকান্ড হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ।

এদিকে হারুন খুনের প্রতিবাদে নগরীর কদমতলী-শুভপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ধর্মঘট পালন করেছে ব্যবসায়ী। খুনের প্রতিবাদ ও আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে মালিক-শ্রমিকরা সব ধরনের পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। একই সাথে ওই এলাকায় সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ ছিল।

আন্ত:জেলা ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সুফিউর রহমান টিপু বলেন, হারুন খুনের প্রতিবাদে কদমতলী এলাকার পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করেছেন। দোকানপাট-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ ছিল। খুনিরা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রতিবাদ চলবে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, হারুন শুভপুর বাস স্টেশন এলাকায় স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতেন। চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় তাকে খুন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত গত রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাট থানার মাদারবাড়ি এলাকায় ব্যবসায়ী হারুনকে (৪০) নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গুলি করে খুন করা হয়। নিহত মো. হারুন প্রয়াত বিএনপি নেতা দস্তগীর চৌধুরীর ভাই আলমগীর চৌধুরীর ছেলে। পরিবহন ব্যবসায় যুক্ত হারুন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নগর পুলিশের কোতোয়ালী জোনের সহকারি কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় শুভপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আনন্দ সমাবেশ ও শোভাযাত্রার আয়োজন করেছিলেন তিন কাউন্সিলর। শোভাযাত্রার এক পর্যায়ে হারুনকে গুলি করা হয়েছে। তার বুকে তিনটি গুলি লেগেছে। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। কিন্তু হারুনকে বাঁচানো যায়নি।