
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় দীর্ঘদিনের এক আতঙ্কের অবসান হয়েছে বলে দাবি করছে স্থানীয়রা, যেখানে ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে আবদুল মন্নান (৩৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, যাকে এলাকার চিহ্নিত ডাকাত হিসেবে অভিযুক্ত করে আসছিল গ্রামবাসী।
রোববার সকালে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের কম্বনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মন্নান ওই এলাকার মছন আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, ধর্ষণ ও অপহরণসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মন্নান ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং নারীদের ওপর যৌন নিপীড়নসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন স্থানীয়রা।
রামু থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ জানান, রোববার সকালে স্থানীয় এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টা ও ছুরিকাঘাত করে পালানোর সময় জনতা মন্নানকে ধরে ফেলে। এরপর উত্তেজিত জনতা তাকে বেধড়ক পিটুনি দেয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
তিনি বলেন, “খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, মন্নানের মৃত্যুতে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, “তার (মন্নান) কারণে আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকতাম। পুলিশ তাকে কয়েকবার ধরে নিয়ে গেলেও কিছুদিন পরই সে ছাড়া পেয়ে যেত এবং আমাদের ওপর অত্যাচার চালাত। আজ মনে হচ্ছে আমরা মুক্ত হয়েছি।”
আরেক বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, “এই লোকটির অত্যাচারে গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। রাত নামলেই তার ভয় কাজ করত। তার মৃত্যুতে ছোট-বড় সবাই স্বস্তি পেয়েছে।”
পুলিশ জানায়, মন্নান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একটি সশস্ত্র ডাকাত দল পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মাত্র দুই দিন আগে স্থানীয়রা কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও করেছিল।
তবে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই ঘটনাকে মানবাধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
কক্সবাজারের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন আহমেদ সোহেল বলেন, “অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে গণপিটুনিতে হত্যা করা রাষ্ট্রীয় আইন ও মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। যখন বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়, তখন মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো বিপজ্জনক পথ বেছে নেয়, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত।”
পুলিশ জানিয়েছে, গণপিটুনির এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। জনতার ক্ষোভের পেছনের কারণ এবং আইনি প্রক্রিয়া— উভয় দিক থেকেই ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।