
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য সরকারিভাবে বিতরণ করা গরুর বাছুরের মান নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগীদের অভিযোগ, তাদের দেওয়া বাছুরগুলো হাড্ডিসার ও রোগাক্রান্ত, যার মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
গত বুধবার (২৫ জুন) চকরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর মাঠে ‘সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় ১৪২ জন উপকারভোগীর মধ্যে ৮২ জনকে বকনা বাছুর বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান উপস্থিত থেকে এগুলো হস্তান্তর করেন।
তবে বিতরণের পরই বাছুরগুলোর স্বাস্থ্য ও মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। উপকারভোগীরা জানান, কয়েক বছর আগে একই ধরনের প্রকল্পে উন্নত জাতের ও বড় আকারের বাছুর দেওয়া হলেও এবার দেওয়া হয়েছে অনেক ছোট, দুর্বল ও রোগাক্রান্ত চেহারার বাছুর।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। চকরিয়ার সিনিয়র সাংবাদিক এমআর মাহমুদ ফেসবুকে এক পোস্টে ব্যঙ্গ করে লেখেন, “কর্তৃপক্ষ এত মোটাতাজা গরুগুলো কোথায় পেলেন জানতে ইচ্ছে করে। খালি চোখেও গরুগুলোর হাড় গণনা করা যাবে।”
অনেকেই এই বিতরণকে ‘লুটপাট প্রকল্প’ হিসেবে অভিহিত করে বলছেন, এর মাধ্যমে শুধু সরকারি অর্থই লোপাট করা হয়নি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সঙ্গে বিশ্বাসেরও প্রতারণা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আরিফ উদ্দিন বলেন, “বিতরণ করা বকনা গরুগুলো শারীরিকভাবে সুস্থ ছিল। উত্তরবঙ্গ থেকে ২০-২২ ঘণ্টা গাড়িতে করে আনায় সেগুলোকে একটু দুর্বল মনে হয়েছে। বিতরণের আগে আমাদের দপ্তর থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে।”
তবে তিনি এই কেনাকাটার দায় তার দপ্তরের নয় বলে জানান। তিনি বলেন, “এসব গরুর বাছুর কেনার কাজটি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অফিস থেকে। তারা টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করে তাদের মাধ্যমেই গরুগুলো সংগ্রহ করে বিতরণের জন্য আমাদের অফিসে পাঠিয়েছেন। আমরা শুধু তালিকা অনুযায়ী বিতরণ করেছি। সুতরাং এখানে আমাদের দপ্তরের দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই।”