
চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার এলাকায় শতবর্ষী একটি পুকুর অবৈধভাবে ভরাটের অভিযোগে একটি খননযন্ত্র (এক্সক্যাভেটর) জব্দ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একটি অনলাইন পোর্টালে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর রোববার (২৯ জুন) সকালে এই অভিযান চালানো হয় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শুনানির জন্য তলব করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগরের উপপরিচালক মুক্তাদির হাসান জানান, গত ২৮ জুন ‘দ্য ক্লাইমেট ওয়াচ’-এ ‘Historic Pond illegally filled with excavator in broad daylight in Chattogram—No action despite complaint to environment department’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা এই ব্যবস্থা নিয়েছেন।
তিনি বলেন, “সংবাদ প্রকাশের পর আমরা শনিবার রাতেই অভিযান চালানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু জনবলের অভাবে তা সম্ভব হয়নি। পরে রোববার সকালে আমাদের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।”
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক রুম্পা সিকদার জানান, অভিযানে গিয়ে তারা একটি খননযন্ত্র দিয়ে নিচু এলাকা ভরাট করতে দেখেন। তিনি বলেন, “স্থানীয়রা দাবি করেছেন, জায়গাটি আগে একটি পুকুর ছিল, যদিও পরিদর্শনের সময় পুকুরের কোনো ভৌত চিহ্ন পাওয়া যায়নি, কারণ এর বেশিরভাগ অংশই ইতোমধ্যে ভরাট করে ফেলা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে খননযন্ত্রটি জব্দ করে একজন স্থানীয় জিম্মাদারের কাছে রাখা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জমির কাগজপত্রসহ আগামী ১ জুলাই পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে শুনানির জন্য তলব করা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চকবাজারের কেবি আমান আলী সড়কে বড় মিয়া মসজিদের পাশে প্রায় ৩৬ শতকের এই পুকুরটি মূলত সালেহ আহমেদ নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ছিল। পরবর্তীতে তার কন্যারা উত্তরাধিকার সূত্রে এর মালিক হন। অভিযুক্তদের একজন, জাভেদ উল আলম, তাদের কাছ থেকে সম্পত্তিটি কিনে নেন বলে জানা গেছে।
প্রায় দুই বছর আগে আয়ুব আলী নামে এক সৌদি প্রবাসী পুকুরটির প্রায় চার শতক জায়গা কিনে ভরাট করে একটি সেমি-পাকা বাড়ি তৈরি করেন। সম্প্রতি, জাভেদ উল আলম আবাসিক প্লট তৈরির জন্য বাকি অংশ ভরাট করা শুরু করলে স্থানীয়রা গত ২০ ও ২৪ জুন পরিবেশ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিদপ্তর দেরিতে অভিযান চালানোয় পুকুরটির সিংহভাগই ভরাট হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত চার দশকে সরকারি অবহেলা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবে চট্টগ্রাম শহর থেকে ২৪ হাজারেরও বেশি পুকুর হারিয়ে গেছে, যা শহরের পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।