
একটি মাত্র কিডনির ওপর ভর করে বেঁচে থাকা ফটিকছড়ির স্কুলছাত্র মো. আজিজুল হক জিহাদ (১৭) তার জীবন বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা চেয়েছেন। তার একমাত্র কিডনিটিও বিকল হতে শুরু করায় প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ইনজেকশনসহ ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছে না তার পরিবার।
এক ভিডিও বার্তায় বেঁচে থাকার আকুতি জানিয়ে জিহাদ বলে, “আমিও আপনাদের সাথে বাঁচতে চাই। পৃথিবীর আলো-বাতাস দেখতে চাই। মানুষের জন্য বড় হয়ে কাজ করতে চাই। আমি একটু নিয়মিত চিকিৎসা ও মেডিসিন পেলেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাঁচতে পারব।”
জিহাদ চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভার মাহালিয়াটিলা গ্রামের বাসিন্দা এবং রাঙ্গামাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা আবুল কাশেম ওমানে শ্রমিকের কাজ করেন এবং মা লিলু আকতার একজন গৃহিণী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে জিহাদের কিডনির সমস্যা প্রথম ধরা পড়ে। ২০১৮ সালে ভারতে চিকিৎসার সময় তার একটি কিডনি অপসারণ করা হয়। গত আট বছর ধরে একটি কিডনি নিয়ে চললেও সম্প্রতি সেটিও বিকল হতে শুরু করেছে।
বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. মারুফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, তার প্রতি মাসে একটি করে ইনজেকশন প্রয়োজন, যার মূল্য ৪০ হাজার টাকা। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা চালিয়ে জিহাদের দরিদ্র বাবা-মা এখন প্রায় নিঃস্ব।
রাঙ্গামাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বলেন, “জিহাদ খুবই ভালো ও মেধাবী। নিয়তির কি নির্মমতা, টগবগে ছেলেটি অর্থের অভাবে চরমভাবে চিকিৎসায় ধুঁকছে। দেশের মানুষ সদয় হলে মেধাবী এই ছেলেটি বাঁচতে পারবে।”
জিহাদের মা লিলু আকতার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “জীবনযুদ্ধে হার না মানা এক মা আমি। সর্বস্ব দিয়েও সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই। সন্তানের জন্য আমার খালি দুই হাত সবার কাছে প্রসারিত।”
জিহাদকে সহযোগিতা পাঠানোর জন্য তার মায়ের নামে খোলা বিকাশ ও নগদ নম্বর হলো: ০১৮২৪২৯৬৪৩৭। এছাড়াও ব্যাংক এশিয়ার ফটিকছড়ি শাখায় সাহায্য পাঠানো যাবে। হিসাবের নাম: লিলু আক্তার (Lilo akter), হিসাব নম্বর: ১০৮৩৪১৫০৭৬৬৮২।