বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

চট্টগ্রাম-নারায়ণগঞ্জ ডিজেল পাইপলাইন চালু হচ্ছে, বছরে সাশ্রয় ২৫০ কোটি

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১ জুলাই ২০২৫ | ৭:৩৪ পূর্বাহ্ন


দেশে প্রথমবারের মতো পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল পরিবহনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত নির্মিত এই ডিজেল পাইপলাইনটি চলতি জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহে চালুর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত, যা বছরে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা সাশ্রয় করবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। সম্প্রতি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরীক্ষামূলকভাবে ৬ হাজার টন ডিজেল সফলভাবে পরিবহন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিপিসির চেয়ারম্যান আমিন উল আহসান সোমবার জানান, “আশা করছি সপ্তাহ দুই-তিনেকের মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাইপলাইন প্রকল্পটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করবে। তার পরপরই আমরা বাণিজ্যিক অপারেশন শুরু করব।”

তিনি বলেন, পাইপলাইনটি চালু হলে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে রেলের লোকোমোটিভ সংকট, সড়কপথের যানজট এবং নৌপথের নাব্যতাসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ হবে। এছাড়া, নৌপথে জাহাজ থেকে তেল খালাসের সময় চুরির যে অভিযোগ পাওয়া যায়, তা-ও শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।

বিপিসি কর্মকর্তারা জানান, দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৭০ শতাংশই ডিজেল, যার একটি বড় অংশ ঢাকায় ব্যবহৃত হয়। এই পাইপলাইনটি চালু হলে সেই সরবরাহ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন হবে।

জানা গেছে, প্রায় ৩ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন থেকে বছরে ৩২৬ কোটি টাকা আয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিচালন ব্যয় বাদ দিলে সরকারের বার্ষিক সাশ্রয় হবে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা এবং আগামী ১৬ বছরের মধ্যে প্রকল্পের বিনিয়োগ উঠে আসবে।

জ্বালানি বিভাগ এরই মধ্যে পাইপলাইনে পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহনের জন্য ‘পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানি পিএলসি (পিটিসি পিএলসি)’ নামে একটি আলাদা কোম্পানি গঠন করেছে।

কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রায়হান আহমাদ বলেন, “পাইপলাইনে তেল পরিবহনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শিগগিরই শুরু হবে। দুই দফা পরীক্ষামূলক সরবরাহ সফল হয়েছে এবং বাকি কাজগুলোও চলছে।”