
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ছনুয়া খালের ওপর নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকো ভেঙে পড়ে দুটি উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। লবণবোঝাই ট্রলারের ধাক্কায় সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং ওই স্থানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
গত ২৯ জুন ভোরে বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়ন ও কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের সংযোগকারী এই সাঁকোটি ভেঙে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, লবণ বোঝাই দুটি বড় ট্রলার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাঁকোটিতে সজোরে আঘাত করলে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পানিতে নুইয়ে পড়ে।
দীর্ঘদিন ধরে ছনুয়া খাল পারাপারে দুর্ভোগ লাঘবের জন্য ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ‘ছনুয়া উন্নয়ন পরিষদ’ নামে একটি সামাজিক সংগঠন এই বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করেছিল।
ছনুয়া উন্নয়ন পরিষদের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন জানান, সাঁকোটি নির্মাণে প্রায় ৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ ২ লাখ টাকা সহায়তা দেয় এবং বাকি টাকা সংগঠনের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হয়।
সাঁকোটি নির্মাণের ফলে রাজাখালী ফৈজুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, রাজাখালী ফৈজুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রাজাখালী বিইউআই কামিল মাদ্রাসার হাজারো শিক্ষার্থীসহ দুই ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছিল।
রাজাখালী ফৈজুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, “তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য আশীর্বাদ ছিল সাঁকোটি। এখন আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।”
ছনুয়া উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি মো. আমিরুল হক এমরুল কায়েস বলেন, “সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় দুটি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনিশ্চিত হয়ে গেল। আমরা ওই স্থানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামশেদুল আলম বলেন, “এখন বড় উদ্যোগ গ্রহণের মতো বরাদ্দ উপজেলা পরিষদের নেই। তবে সাঁকোটি সংস্কারের জন্য আমি জেলা পরিষদের সঙ্গে কথা বলব।”