বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

এনসিটি ছয় মাসের জন্য বন্দরের ব্যবস্থাপনায়, এরপর যাবে বিদেশিদের হাতে

এনসিটি পরিচালনায় নৌবাহিনীর সম্ভাবনা, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বুধবার
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১ জুলাই ২০২৫ | ৪:১৪ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম বন্দর
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার আগে আগামী ছয় মাসের জন্য বন্দরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। মঙ্গলবার (১ জুলাই) অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

একইসঙ্গে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দরই সিদ্ধান্ত নেবে, কারা এটি পরিচালনা করবে। তবে এর জন্য কোনো দরপত্র ডাকা হবে না, এটি হবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এবং ছয় মাসের জন্য। আগামীকাল বুধবার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।”

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৭ জুলাই থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে এই টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। বন্দরের সহায়তায় নৌবাহিনী আগামী ছয় মাস টার্মিনালটি পরিচালনা করবে।

দেশের সবচেয়ে বড় এই টার্মিনালটি গত ১৭ বছর ধরে দেশীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড পরিচালনা করে আসছে, যাদের চুক্তির মেয়াদ আগামী ৬ জুলাই শেষ হচ্ছে।

এর আগে গত ১৮ জুন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সভায় টার্মিনালটি বন্দরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল এবং এর জন্য ছয় মাসের জন্য ৪২ কোটি টাকা চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠিও দিয়েছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হয়।

পরবর্তীতে গত শনিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বন্দর কর্মকর্তাদের বৈঠকে নৌবাহিনীর মাধ্যমে টার্মিনালটি পরিচালনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।

উল্লেখ্য, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এনসিটি টার্মিনালটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এগিয়ে নিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী নভেম্বর মাসে এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) এই হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। চূড়ান্ত চুক্তির আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্যই টার্মিনালের পরিচালনার ভার নৌবাহিনীর হাতে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।