বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

রেকর্ড পরিমাণ তেল শোধন ইস্টার্ন রিফাইনারির, সক্ষমতা বাড়েনি ৫৪ বছরে

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১ জুলাই ২০২৫ | ৪:৩২ অপরাহ্ন


দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ তেল শোধন করেছে। তবে এই সাফল্য সত্ত্বেও, গত ৫৪ বছরে দেশের তেল পরিশোধনের সক্ষমতা না বাড়ায় বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইআরএল ১৫ লাখ ৩৫ হাজার টন অপরিশোধিত তেল শোধন করেছে, যা প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক ১৫ লাখ টন সক্ষমতার চেয়ে ৩৫ হাজার টন বেশি। গত ১০ বছরের মধ্যে মাত্র একবার প্রতিষ্ঠানটি তার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পেরেছিল।

ইআরএলের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, “সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও নিরবচ্ছিন্ন তেল সরবরাহ থাকায় ৫৭ বছরের পুরোনো এই পরিশোধনাগারে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি তেল শোধন করা সম্ভব হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান আমিন উল আহসান জানান, ইআরএলের বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় ইউনিট বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে এবং এ সংক্রান্ত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে খুব দ্রুত ইআরএল দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে।” এই ইউনিটটি নির্মিত হলে পরিশোধন ক্ষমতা আরও ৩০ লাখ টন বাড়বে, যা বছরে প্রায় ২৪ কোটি ডলার সাশ্রয় করবে।

বিপিসি চেয়ারম্যান আরও জানান, মহেশখালীতে ১০ লাখ টন ক্ষমতার একটি এবং পায়রা বন্দরে আরেকটি নতুন শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েও সরকার কাজ করছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেল পরিশোধনের সক্ষমতা না বাড়ায় বাংলাদেশকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ডলার খরচ করে পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করতে হচ্ছে। এর মধ্যে ইআরএলের দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের প্রকল্পটি গত ১৩ বছরেও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত।