
“টাকা দিচ্ছি, কিন্তু বাসা থেকে ময়লা নিচ্ছে না”—নগরবাসীর এমন অসংখ্য অভিযোগ পাওয়ার পর প্রায় দুই হাজার পরিচ্ছন্নকর্মীকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।
একইসঙ্গে ডোর-টু-ডোর ময়লা সংগ্রহে অনিয়ম ও খেয়ালখুশি মতো টাকা আদায় বন্ধে নতুন নীতিমালা করার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।
কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, “আমি প্রতিদিন ৩০-৪০টি কল পাই, যেখানে বাসা থেকে ময়লা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়। তাই আমরা সঠিক প্রক্রিয়ায় এই সমস্যার সমাধান করতে চাই। ইতিপূর্বে নিয়োগ পাওয়া পরিচ্ছন্নকর্মীদের মধ্যে যারা তিন মাস ধরে কাজে আসছেন না, আমরা ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ নীতিতে তাদের বাদ দিয়ে নতুন শ্রমিক নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
তিনি জানান, ডোর-টু-ডোর ময়লা সংগ্রহে সেবা নিশ্চিতে ৪১টি ওয়ার্ডের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে সক্ষম প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে প্রথমে সতর্কতা, পরে চুক্তি বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের উদ্দেশ্য নগরবাসীকে একটি সুশৃঙ্খল ও নিরবচ্ছিন্ন পরিচ্ছন্নতা সেবা দেওয়া।”
ইখতিয়ার উদ্দিন আরও বলেন, “কিছু কোম্পানি মসজিদ-মাদ্রাসা থেকে ২-৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছে, অথচ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে তাদের কোনো চুক্তি নেই। আমরা আইনি পথে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
নগরে জলাবদ্ধতার জন্য বাসাবাড়ির আবর্জনাকেও দায়ী করে তিনি বলেন, “ড্রেন পরিষ্কারের পর আবার ময়লা জমে। কারণ, অনেকে জানালা দিয়ে ময়লা ফেলে দেয়।”
যানবাহন ও যন্ত্রপাতির সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেক যন্ত্রপাতি ২০-২৫ বছরের পুরোনো। ভাড়া করে ময়লা সরাতে হচ্ছে। এই খাতে আরও বরাদ্দ প্রয়োজন।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চসিক সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি ও উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা।