বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

গোপালগঞ্জে হামলায় জড়িত ‘স্বৈরাচারের দালালদের’ কঠোর শাস্তি দিন: পীর চরমোনাই

দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৭ জুলাই ২০২৫ | ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন


গোপালগঞ্জে ‘জুলাই অভ্যুত্থানে’ নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের ‘স্বৈরাচারের দালাল’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

বুধবার রাতে চট্টগ্রামের পটিয়ায় এক সম্মেলনে তিনি বলেন, এই হামলার ঘটনাটি প্রশাসনের ‘সার্বিক ব্যর্থতার বড় একটি দৃষ্টান্ত’।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম পূর্ব জেলার উদ্যোগে আয়োজিত তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “সারা বাংলাদেশ যখন একযোগে স্বৈরাচারী হাসিনাকে উৎখাত করেছে তখন গোপালগঞ্জে হাজার হাজার খুন, গুম ও হাজার কোটি টাকা পাচারকারী শক্তির পক্ষে কেউ প্রকাশ্য অবস্থান নিয়ে দেশপ্রেমিক ছাত্র নেতৃত্বের ওপরে হামলা করবে এবং তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখবে তা মেনে নেয়া যায় না।”

তিনি সরকারের প্রতি অবরুদ্ধ ছাত্রনেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত উদ্ধারের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

‘জুলাই অভ্যুত্থানের’ নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র সংগঠন এনসিপির দেশব্যাপী পদযাত্রার অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জে যাওয়ার পর এই হামলার ঘটনা ঘটে।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “তাদের সাথে আজকে গোপালগঞ্জে যা হয়েছে তা লজ্জাজনক। একই সাথে প্রশাসনের ব্যর্থতাও বটে। অভ্যুত্থানের নেতৃবৃন্দ গোপালগঞ্জে আসলে সেখানে পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে এটা তাদের অনুধাবন করে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ ছিলো।”

এই ঘটনায় গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপারসহ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন সহিংসতার সুযোগ করে দিলো কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।”

হামলাকারীদের পরিচয় নিয়ে কোনো কোনো গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের সমালোচনা করে ইসলামী আন্দোলনের আমীর বলেন, “কোন কোন মিডিয়া হামলাকারী ফ্যাসিবাদের দোসরদের ‘গ্রামবাসী, এলাকাবাসী’ অভিহিত করেছে। এর পেছনের কারণ সুস্পষ্ট… আদতে পুরোটা মিথ্যা বয়ান। যারা এনসিপির ওপরে হামলা করেছে তারা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী। এদেরকে আওয়ামী লীগের পান্ডা হিসেবেই প্রচার করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “পতিত ফ্যাসিবাদের বিচার এবং এর সাথে জড়িতদের বিচারের ধীরগতির কারণেই এরা আজকে এই সাহস করেছে। তাই বলবো, কেবল ঢাকায় গুটিকয়েকজনকে বিচারের আওতায় আনলে হবে না, বরং সারা দেশে স্বৈরতন্ত্রের সাথে জড়িত সকলকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনুন।”

জেলা সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইউনুছের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. বেলাল নূর আজিজী, চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মুহাম্মাদ জান্নাতুল ইসলাম, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মুহাম্মাদ শরিফুল আলম চৌধুরী এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ মিশকাতুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

সম্মেলনে পীর সাহেব চরমোনাই আগামী নির্বাচনের জন্য চট্টগ্রামের তিনটি আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। প্রার্থীরা হলেন: চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ড. বেলাল নূর আজিজি, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুল হামিদ এবং চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে মুহাম্মাদ শরীফুল আলম চৌধুরী।