
নিম্নচাপের রেশ কাটতে না কাটতেই মৌসুমি বায়ুর তাণ্ডব! আজ সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টিতে আক্ষরিক অর্থেই ভেসেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। মাত্র কয়েক ঘণ্টার বর্ষণে নগরের নিচু এলাকাগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে, সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। রাস্তাঘাট পরিণত হয়েছে খালে।
এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্দেশে বের হওয়া হাজারো মানুষ। শুধু রাস্তাই নয়, পানি ঢুকে পড়েছে নগরের ঐতিহ্যবাহী রেয়াজুদ্দিন বাজারের শত শত দোকানপাটেও।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। আমবাগান আবহাওয়া কেন্দ্রেও এই পরিমাণ ছিল ৫৫ মিলিমিটার।
এই ভারি বর্ষণের ফলে নগরের চেনা দৃশ্যপট মুহূর্তেই বদলে যায়। প্রবর্তক মোড়, জিইসি মোড়, ওয়াসা, আগ্রাবাদ, হালিশহর, চান্দগাঁও, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ এবং রেয়াজুদ্দিন বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে হাঁটুপানি জমে যায়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, যানবাহন চলাচলের জন্য তৈরি আখতারুজ্জামান উড়ালসড়কেও পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হতে দেখা গেছে।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরের আতুরার ডিপো এলাকায় হাটহাজারী সড়কে হাঁটুপানি ঠেলে যানবাহনগুলোকে কচ্ছপ গতিতে চলতে দেখা যায়, যা সৃষ্টি করে দীর্ঘ যানজট।
জলাবদ্ধতার সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে নগরের প্রধান পাইকারি বাজার রেয়াজুদ্দিন বাজারে। সকাল ১০টার দিকে দেখা যায়, বাজারের কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে কাপড়ের গলির দোকানগুলোতে পানি ঢুকে পড়েছে। ‘এস আলম এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি দোকানের মালিককে অসহায়ভাবে দোকানের ভেতর থেকে পানি সেঁচে মালামাল বাঁচানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়।
অন্যদিকে, বৃষ্টির কারণে রাস্তায় যানবাহন কমে যাওয়ায় গণপরিবহন সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। এই সুযোগে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকেরা হাঁকিয়েছেন দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া। ফলে বৃষ্টিতে ভেজা আর জলাবদ্ধতার ভোগান্তির পাশাপাশি যাত্রীদের গুনতে হয়েছে বাড়তি টাকা।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা বলেন, “খাল ও নালাগুলো পরিষ্কার আছে। তবে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টি হওয়ায় পানি নামতে সময় লাগছে।”
এদিকে, ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে মো. শরীফ নামে এক ব্যক্তি লিখেছেন, “চট্টগ্রামের সিরাজ-উদ-দৌলা রোডে সাবেরিয়া এলাকায় রাস্তায় হাঁটু পরিমাণ পানি। দীর্ঘ ২ কিলোমিটার যানজট। …যারা বেসরকারি জব করেন, পানিসহ ছবি তোলেন। নতুবা লেট অ্যাটেনডেন্সের জন্য একদিনের স্যালারি কেটে রাখবে!” তাঁর এই একটি কথাই যেন পুরো নগরবাসীর ভোগান্তির প্রতিচ্ছবি।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল হাসান জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ উপকূল অতিক্রম করলেও এর প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। সঙ্গে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আজ সারাদিনই মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির আশা দিয়েছেন তিনি। ততক্ষণ পর্যন্ত, চট্টগ্রামের মানুষকে এই পানিযন্ত্রণা নিয়েই দিন কাটাতে হবে।