
দেশজুড়ে যখন উন্নয়নের জয়গান, তখন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের একটি রাস্তাই যেন পুরো এলাকার মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাম তার ফকিরাচাঁন-মাদার্শাবাড়ি সড়ক। কিন্তু স্থানীয়দের কাছে এটি এখন শুধুই এক ‘মরণফাঁদ’।
বছরের পর বছর ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটি এতটাই বেহাল যে, বর্ষায় এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কাঁদা-পানিতে একাকার হয়ে যাওয়া এই পথে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন, আর পায়ে হেঁটে চলাচল করা মানুষের দুর্ভোগের যেন কোনো শেষ নেই।
সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সড়কের এক করুণ চিত্র। পুরো রাস্তা জুড়ে ছড়িয়ে আছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কোথাও কোথাও পিচ-ইটের চিহ্নমাত্র নেই, পরিণত হয়েছে মাটির রাস্তায়।
দুই বছর আগে আঁধায়েরঠেক থেকে ভূঁইয়াবাড়ি পর্যন্ত মাত্র ১৬০ ফুটের একটি অংশে দায়সারাভাবে ইট বিছানো হলেও বাকি সড়কের অবস্থা তথৈবচ। বর্ষার পানিতে গর্তগুলো ভরে গিয়ে পরিণত হয়েছে মৃত্যু-ডোবায়।
সড়কের পাশে মাটি সরে গিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর খাদ, যেখানে সামান্য অসাবধানতাই ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। এমন পথে সিএনজি অটোরিকশা থেকে শুরু করে পণ্যবাহী গাড়িগুলোও হেলেদুলে চলছে, যা দেখে পথচারীদের বুক কেঁপে ওঠে।
“রাস্তা দিয়ে এখন হাঁটাও যায় না,” ক্ষোভের সঙ্গে বলেন পথচারী আব্দুল মালেক। “স্কুলের বাচ্চারা প্রতিদিন কাঁদা মাড়িয়ে স্কুলে যায়। তার উপর বালু আর ইটের গাড়িগুলো এমনভাবে চলে যে, হাঁটার জায়গাটুকুও থাকে না। আমাদের এই কষ্ট দেখার কি কেউ নেই?”

শুধুমাত্র চলাচলই নয়, এই বেহাল সড়ক স্থবির করে দিয়েছে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা। স্থানীয় বাসিন্দা এম এ সুজন বলেন, “সারা দেশে এত উন্নয়ন হচ্ছে, আর আমাদের এই রাস্তাটি বছরের পর বছর ধরে এমন অবস্থায় পড়ে আছে। আমরা এই চরম ভোগান্তি থেকে মুক্তি চাই। কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”
কাছাকাছি এক দোকানের মালিক রিপন আলীর কণ্ঠে ছিল রাজ্যের হতাশা। তিনি বলেন, “এই রাস্তা এখন আর ব্যবহারের যোগ্য নেই। গ্রামের মানুষ যে কী পরিমাণ কষ্টে আছে, তা বলে বোঝানো যাবে না। জানি না, আমাদের এই দুর্ভোগ কবে শেষ হবে।”
জনদুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পাইন্দং ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম সরোয়ার হোসেন স্বপন জানান, সড়কটি সংস্কারে তাঁদের পরিকল্পনা রয়েছে এবং এ নিয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় ও এলজিইডিতে তদবির চলছে। তবে তিনি একটি জটিলতার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, সড়কের একটি অংশ এলজিইডির আইডিভুক্ত হলেও ‘তাজুর ঘাটা থেকে হালদার পাড়’ পর্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখনো আইডির বাইরে রয়ে গেছে।
একই সুর ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথের কথাতেও। তিনি বলেন, “সড়কটির উন্নয়নে আমরা প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছি। সড়কের একটি অংশ আইডিভুক্ত না থাকায় পুরো কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। আইডি অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।”