
ঘূর্ণিঝড় প্রবণ এলাকা চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ১২১টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ২৮টিই জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে; নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে আরও ১৯টি।
রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ও প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় এসব আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে দুর্যোগের সময় উপকূলের প্রায় চার লাখ বাসিন্দা আতঙ্কে থাকেন।
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে বাঁশখালীতে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের প্রাণহানির পর সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে উপকূলীয় এলাকা জুড়ে এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল।
উপজেলার ছনুয়া, গণ্ডামারা, শেখেরখীল, খানখানাবাদ, বাহারছড়াসহ বিভিন্ন উপকূলীয় ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, অনেক আশ্রয়কেন্দ্রের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, দরজা-জানালা ভেঙে গেছে এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র চুরি হয়ে গেছে।
খানখানাবাদ ইউনিয়নের কদমরসুল এলাকার বাসিন্দা মোরশেদ আলম বলেন, “আমাদের চোখের সামনেই কদমরসুলের আশ্রয়কেন্দ্রটি সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। কোটি টাকায় নির্মিত এই ভবনটি রক্ষায় কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।”
কিছু আশ্রয়কেন্দ্র বর্তমানে বিদ্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের জীবনও ঝুঁকিতে ফেলছে।
ছনুয়া বালুখালী মোছাদ্দেকীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আজিজ বলেন, “স্কুলে জায়গার অভাবে রেড ক্রিসেন্টের অনুমতি নিয়ে পার্শ্ববর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে ২৫২ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করা হচ্ছে। কিন্তু ভবনটি পশ্চিম দিকে হেলে পড়েছে, রেলিং ভাঙা এবং নিচের মাটিও সরে গেছে। সংস্কারের জন্য বারবার আবেদন করেও সাড়া মেলেনি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনসংখ্যার তুলনায় আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা অপ্রতুল। যেগুলো আছে, তারও বেশিরভাগ দুর্যোগের সময় তালাবদ্ধ থাকে অথবা প্রভাবশালীরা দখল করে রাখে, ফলে সাধারণ মানুষ আশ্রয় নিতে পারে না।
বিএনপির স্থানীয় নেতা শাখাওয়াত জামাল দুলাল বলেন, “১৯৯১ সালের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহায়তায় এসব আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। কিন্তু যথাযথ তদারকির অভাবে এখন সেগুলোর বেহাল দশা।”
ছনুয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল আমিন জানান, ২০১৯ সালে তার ইউনিয়নের ৯টি আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কারে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো কোনোমতে সংস্কার করা হলেও আরও অনেকগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়ে গেছে।
জনসংখ্যার বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে আরও ৩০টি নতুন আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনের জন্য দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন বলে জানান গণ্ডামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লেয়াকত আলী।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামশেদুল আলম বলেন, “উপকূলবাসীর সুরক্ষায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু কেন্দ্র জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ওই আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”