
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ইছামতী খালের ভাঙনে একটি দিনমজুর পরিবারের ঘর বিলীন হওয়ার খবর প্রকাশের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা।
পরিদর্শন শেষে তারা ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ম অনুযায়ী আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া এলাকায় ভাঙনকবলিত স্থান পরিদর্শন করেন পাউবোর চন্দ্রঘোনা সেকশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিটু চাকমা।
গত ২৬ জুলাই একুশে পত্রিকায় ওই এলাকার ভাঙনের চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
পরিদর্শন শেষে প্রকৌশলী বিটু চাকমা বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে সকালে এলাকাটি পরিদর্শনে আসি। এখানে ভাঙনের ফলে একাধিক পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা ভাঙনপ্রবণ অংশটির পরিমাপ করে প্রতিবেদন জমা দেব।”
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রক্রিয়া অনুযায়ী স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য অয়ন দে বলেন, “আজ পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন এসে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা এলাকাবাসীর স্বাক্ষরসহ রাঙ্গামাটি পানি উন্নয়ন বিভাগে একটি লিখিত আবেদন জমা দিতে বলেছেন। আবেদন জমা দিলে কাজটি দ্রুত অগ্রাধিকার পাবে বলে জানিয়েছেন।”
নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে অয়ন বলেন, “ঋণ করে টিনের একটি ঘর বানিয়েছিলাম, সেই ঋণ এখনও শোধ করতে পারিনি। এর মধ্যেই ঘরের একাংশ খালে ধসে গেছে। দ্রুত এখানে ব্লক ফেলে ভাঙন ঠেকানো না হলে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইছামতী খালের বিভিন্ন অংশে ভাঙন রোধে ব্লক স্থাপন করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে মণ্ডলপাড়া এলাকাটি অরক্ষিত রয়ে গেছে। বারবার এ বিষয়ে দাবি জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।