শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে এলো আফ্রিকার তিন বাঘ

নতুন অতিথিতে মুখর পার্ক, তবে দেখা পেতে অপেক্ষা তিন সপ্তাহ
এম জিয়াবুল হক | প্রকাশিতঃ ১৫ অগাস্ট ২০২৫ | ৮:০৮ অপরাহ্ন


সুদূর আফ্রিকা থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে এসে পৌঁছেছে তিন নতুন অতিথি। ১১ থেকে ১৫ মাস বয়সী দুটি নারী ও একটি পুরুষ বাঘের আগমনে পার্কের বাঘ পরিবারে সদস্য সংখ্যা এখন সাতে দাঁড়িয়েছে, যা দর্শনার্থী ও বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের জন্য নতুন আকর্ষণ তৈরি করেছে। তবে নতুন এই সদস্যদের দেখা পেতে দর্শনার্থীদের অন্তত ২১ দিন অপেক্ষা করতে হবে।

পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, বন বিভাগের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ‘ফ্যালকন ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাঘ তিনটি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সংগ্রহ করে। বুধবার কার্গো বিমানে করে তাদের ঢাকায় আনা হয়। সেখান থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ট্রাকে করে দীর্ঘ সড়কপথ পাড়ি দিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে বাঘগুলো ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে এসে পৌঁছায়।

পার্কে আনার পরই সেগুলোকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন হাতেম সাজ্জাদ জুলকারনাইন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে বাঘ তিনটি পৌঁছানোর পর তাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে খাবার দেওয়া হয়। এরপর সরাসরি পার্কের ভেটেরিনারি হাসপাতালের কোয়ারেন্টিন সেন্টারে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী নতুন আনা যেকোনো বন্যপ্রাণীকে নির্দিষ্ট সময় কোয়ারেন্টিনে রাখতে হয়। এই ২১ দিন বাঘগুলো হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিবিড় পরিচর্যায় থাকবে। কোয়ারেন্টিন সময় শেষে চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর যদি তাদের সম্পূর্ণ সুস্থ ও শঙ্কামুক্ত পাওয়া যায়, তবেই পার্কে নির্ধারিত বেষ্টনীতে ছাড়া হবে। অন্যথায় সেগুলো গ্রহণ করা হবে না।”

এই নতুন সংযোজন সম্পর্কে পার্কের প্রকল্প পরিচালক ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজ বলেন, “পার্কে আগে দুটি পুরুষ ও দুটি নারীসহ মোট চারটি বাঘ ছিল। নতুন তিনটি বাঘ আসায় পার্কে এখন মোট বাঘের সংখ্যা সাতে উন্নীত হলো, যার মধ্যে তিনটি পুরুষ ও চারটি নারী। এটি পার্কের প্রজনন কার্যক্রমেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।”

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনজুর আলম শুক্রবার বিকেলে বাঘগুলোর নিরাপদ আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কোয়ারেন্টিন সময় সফলভাবে শেষ হওয়ার পরই কেবল দর্শনার্থীরা নতুন বাঘগুলো দেখার সুযোগ পাবেন।