সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেনই হলো কাল, বিস্ফোরণে ছটফট করছিল নজরুলের শরীর

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন | প্রকাশিতঃ ৪ অক্টোবর ২০২৫ | ৩:৩৪ অপরাহ্ন


যে অক্সিজেন মানুষের জীবন বাঁচায়, শনিবার সকালে সেই অক্সিজেনের সিলিন্ডারই যেন কেড়ে নিতে বসেছিল চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার মা ও শিশু হাসপাতালের কর্মী মো. নজরুলের প্রাণ। প্রতিদিনের মতো দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই এক মুহূর্তের বিস্ফোরণে তার সাজানো জীবনটা আজ ঝুলছে অনিশ্চয়তার সুতোয়।

সকাল আনুমানিক ১১টা। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় রোগীদের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যস্ত ছিলেন সিনিয়র সুপারভাইজার নজরুল। একটি খালি সিলিন্ডার বদলে নতুন আরেকটি ভরা সিলিন্ডারে মিটার লাগাতে ঝুঁকেছিলেন তিনি। কিন্তু কে জানতো, এই সাধারণ কাজটিই তার জন্য এমন ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনবে!

হঠাৎ এক বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে হাসপাতালের চারপাশ। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে নেয় ৩৩ বছর বয়সী নজরুলের শরীর। সহকর্মীরা ছুটে এসে দেখেন, যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা নজরুলের শরীর দগ্ধ হয়ে গেছে। যে হাসপাতালে তিনি অন্যের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতেন, আজ সেখানেই তার নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য শুরু হয় প্রাণপণ চেষ্টা।

হাসপাতালের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নোমান মেম্বার যখন ঘটনাটির বর্ণনা দিচ্ছিলেন, তার কণ্ঠেও ছিল বিষাদের সুর। তিনি জানান, ঘটনার আকস্মিকতায় সবাই হতবিহ্বল হয়ে পড়ে। সহকর্মী চিকিৎসকরা ছুটে এসে নজরুলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আর এক মুহূর্ত দেরি করেননি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের পথে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নজরুলের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছে। কিন্তু সবকিছুর পরেও প্রশ্ন থেকে যায়, যে মানুষটি অন্যের মুখে অক্সিজেনের মাস্ক লাগিয়ে দিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতো, নিয়তির কী নির্মম পরিহাসে আজ তারই নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠেছে পোড়া মাংসের গন্ধে! সাতকানিয়ার ছদাহা গ্রামে থাকা তার পরিবার হয়তো তখনো জানতো না, তাদের প্রিয় মানুষটি হাসপাতালে জীবনের কী কঠিন এক লড়াই শুরু করেছে। পুরো হাসপাতাল জুড়ে এখন কেবলই শোক আর নজরুলের দ্রুত সুস্থতার জন্য চাপা দীর্ঘশ্বাস।