সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

২৮ বছর পর স্মৃতির উৎসবে

বক্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯৭ ব্যাচের প্রাণের মেলা
এস এম আক্কাছ | প্রকাশিতঃ ৫ অক্টোবর ২০২৫ | ৩:৪২ অপরাহ্ন


ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে গেছে বহুবার, পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ ২৮টি বছর। কৈশোরের দুরন্ত সময় পেছনে ফেলে জীবনের নানা বাঁকে ছড়িয়ে পড়েছেন সবাই। কিন্তু শেকড়ের টান কি ভোলা যায়? যায় না। তাইতো স্মৃতির টানে আবারও প্রিয় প্রাঙ্গণে, প্রিয় সতীর্থদের মাঝে ফিরে এলেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বক্তপুর দায়রাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯৭ সালের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। হোসেন উদ্দিনের মতো অনেকেই ফিরে গিয়েছিলেন সেই ফেলে আসা দিনগুলোতে, যেখানে স্মৃতিরা আজও অমলিন।

শনিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে ফটিকছড়ির আজাদী বাজার হক স্কয়ার কমিউনিটি সেন্টারে বসেছিল এই প্রাণের মেলা। ‘শেকড়ের টানে, কাছে আনে’ স্লোগানকে ধারণ করে আয়োজিত এই মিলনমেলা যেন পরিণত হয়েছিল এক উৎসবে। অনেক দিন পর একে অপরকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। শুভেচ্ছা বিনিময়, কুশল জিজ্ঞাসা আর স্মৃতি রোমন্থনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন সেই ব্যাচেরই শিক্ষার্থী হোসেন উদ্দিন ও নোমান আর রশীদ।

শুধু সহপাঠীদের পুনর্মিলনীই নয়, এই আয়োজন ছিল গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এক অনন্য মঞ্চ। অনুষ্ঠানে সম্মাননা জানানো হয় প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষকদের, যাদের হাত ধরে বেড়ে উঠেছেন আজকের প্রতিষ্ঠিত মানুষেরা। সম্মাননা গ্রহণ করেন প্রাক্তন শিক্ষক মৌলানা দ্বীন মোহাম্মদ, মো. জসিম উদ্দিন, মো. আবদুল হক, মো. সুলেমান, অসীম কুমার বড়ুয়া, অমুন কুমার সরকার, আহম্মদ হোসেন মুপ্তি মফিজুর রহমান। এছাড়াও সম্মানিত করা হয় প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মোহাম্মদ মনজুর এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তৌহিদুল আলমকে।

অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে ওই ব্যাচের শিক্ষার্থী আকলিমা নাহার বলেন, ‘আমি আমার মেয়েকে নিয়ে এই মিলনমেলায় এসেছি। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। অসম্ভব ভালো লাগছে, মনে হচ্ছে যেন সেই স্কুল জীবনে ফিরে গেছি।’

আলোচনা পর্বে অতিথিরা বলেন, এই মিলনমেলাকে ঘিরে যে প্রাণের স্পন্দন তৈরি হয়েছে, তা সবাইকে স্পর্শ করেছে। তারা এই সুন্দর ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন এবং স্কুলজীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেন। এরপর সবার অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সবশেষে একসঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই আনন্দঘন আয়োজন। দীর্ঘ ২৮ বছর পরেও যে তাদের বন্ধুত্বের বাঁধন এতটুকু আলগা হয়নি, বরং প্রাণে প্রাণে জুড়ে আছে, তা এই মিলনমেলার প্রতিটি মুহূর্তেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।