বৃহস্পতিবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

‘আমি হেঁটেই যেতে পারব’

প্রকাশিতঃ শনিবার, এপ্রিল ৭, ২০১৮, ৮:২২ অপরাহ্ণ

একুশে ডেস্ক : ‘আমি হেঁটেই যেতে পারব, হুইল চেয়ারের দরকার নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

৭ এপ্রিল, শনিবার রাজধানীর বিএসএমএমইউতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বের হওয়ার সময় খালেদা জিয়া এমন মন্তব্য করেছেন বলে দাবি করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন।

আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, ‘পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কেবিন ব্লকের ৫১২ নম্বর কক্ষ খালেদা জিয়ার জন্য আগে থেকেই ঠিক করে রাখা হয়েছিল। তিনি সেখানে বিশ্রাম নেওয়ার সময় মেডিকেল বোর্ডের ডাক্তাররা ছাড়াও তার পছন্দের চারজন ডাক্তার তার সঙ্গে দেখা করেন। এরপর তাকে সেখান থেকে পরীক্ষা করতে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি গাড়ি থেকে নিজেই নেমেছেন, হেঁটে হেঁটে রেডিওলজি বিভাগে গিয়েছেন। আবার পায়ে হেঁটেই গাড়িতে উঠছেন। ওই সময় তাকে (খালেদা জিয়াকে) আমি বলেছিলাম আপনার জন্য হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করা আছে। উত্তরে তিনি বলেন, আমি হেঁটেই যেতে পারব, হুইল চেয়ারের দরকার নেই।’

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে হারুন বলেন, ‘এটা পরীক্ষার ফলাফল পাবার পরে, সেই ফলাফল দেখে মেডিকেল বোর্ডের ডাক্তাররাই বলতে পারবেন। তবে আপাতদৃষ্টিতে দেখছি ভালো আছেন।’

খালেদা জিয়ার কী ধরনের পরীক্ষা করানো হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে বিএসএমএমইউর পরিচালক বলেন, ‘এখানে শুধু তার শরীরের হাড়ের বিভিন্ন অংশের এক্স-রে করানো হয়েছে। ঢাকা মেডিকেলের ডাক্তারদের বোর্ড থেকে যে ধরনের উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, শুধু সেগুলোই করানো হয়েছে। আর তার অন্যান্য পরীক্ষা আগেই করানো হয়েছে। খালেদা জিয়াকে বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে কারগার থেকে এখানে আনা হয়েছিল। পরে বেলা ১টা ৩০ মিনিটে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

৭ এপ্রিল, স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বেলা দেড়টার দিকে খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িটি হাসপাতাল থেকে বের হয়। ১টা ৫০ মিনিটে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগার পৌঁছায়। এর আগে বেলা সোয়া ১১টার দিকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কের পুরনো কারাগার থেকে কালো রঙের একটি গাড়িতে করে খা‌লেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সা‌ড়ে ১১টার দি‌কে খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে নি‌য়ে আসা হ‌য়। ওই সময় তার গাড়ির সামনে- পেছনে কারা কর্তৃপক্ষের দুটি গাড়ি ছাড়াও ছিল র‌্যাবের পাহারা।

খালেদা জিয়া দীর্ঘ দুই মাস ধরে পুরনো কারাগারে একমাত্র বন্দী হিসেবে থাকছেন। তার চিকিৎসায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. শামসুজ্জামান। বোর্ডে সদস্য রয়েছেন ডা. মনসুর হাবীব (নিউরোলজি), টিটু মিয়া (মেডিসিন) ও সোহেলী রহমান (ফিজিক্যাল মেডিসিন)। এই মেডিকেল বোর্ড গত সপ্তাহে কারাগারে বিএনপির চেয়ারপারসনকে দেখে এসে জানিয়েছিল, তার অসুস্থতা গুরুতর নয়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দী হওয়ার পর খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তাকে দেখতে চাইলেও কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাননি।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে দলীয় নেত্রীকে দেখে এসে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘ম্যাডামের স্বাস্থ্য খুব একটা ভালো নয়। তার আরথ্রাইটিসের (বাত) সমস্যা বেশ বেড়ে গেছে। তার হাঁটতেও কষ্ট হয়। যেটাকে কিছুটা স্নায়বিক সমস্যা বলা হয়, সেটাও দেখা দিয়েছে। সত্যিকার অর্থেই তিনি কিছুটা স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়েছেন।’

একুশে./এএ