সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

কবর থেকে ভারতীয় নাগরিকের লাশ তুলতে দূতাবাসের আবেদন

| প্রকাশিতঃ ১ অগাস্ট ২০১৮ | ৩:৩৬ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম : নগরের খুলশী থানার রেলগেট এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত ভারতীয় সেলিম মিয়ার লাশ কবর থেকে তুলতে আবেদন করেছে চট্টগ্রামস্থ সহকারী ভারতীয় দূতাবাস। বুধবার সকালে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের দফতরে এ সংক্রান্ত একটি আবেদন জমা দেন সহকারী ভারতীয় দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব শুভাশীষ সিনহা।

এর আগে গত ২৫ জুলাই দিনগত রাত সাড়ে ৩টায় খুলশী রেলগেট এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিন মাদককারবারি নিহত হন। ওই সময় তাদের মধ্যে দু’জনকে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের ডালিম শেখ (২৯) ও মো. জাকির হোসেন (৩১) হিসেবে শনাক্ত করা হলেও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী অপর ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হতে পারেনি। পরে চার দিনের মাথায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে অপরজনকে দাফন করে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম।
ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পেরেছে, চট্টগ্রামে নিহত ওই যুবকের নাম সেলিম মিয়া (২৭)। তিনি ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার বক্সনগরের মৃত মনু মিয়ার ছেলে। সেলিম মিয়ার পরিবারের দাবি, সেলিম কোনো অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাঁর মরদেহ ফিরিয়ে নিতে তাঁর বৃদ্ধা মা ও স্ত্রী ত্রিপুরা রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিহত সেলিম মিয়ার ভারতীয় পাসপোর্ট নম্বর এল ২০৩০৫৫৯। তিনি বাংলাদেশি ভিসায় গত ২৩ জুলাই আগরতলা-আখাউড়া সীমান্ত চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকেন। বাংলাদেশি মোবাইল নম্বর থেকে সর্বশেষ গত ২৫ জুলাই তিনি ভারতে তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।

এ খবর জানার পর ভারতীয় দূতাবাস পুলিশকে বিষয়টি জানায়। এরপর কবর থেকে লাশ তোলার প্রক্রিয়া শুরু করে। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কাছে এ সংক্রান্ত একটি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে দূতাবাসের পক্ষ থেকে।

চট্টগ্রামস্থ সহকারী ভারতীয় দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব শুভাশীষ সিনহা একুশে পত্রিকাকে জানান, আজ সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে এ সংক্রান্ত একটি আবেদন দূতাবাসের পক্ষ থেকে জমা দেয়া হয়েছে। আশা করি শিগগিরই সেলিম মিয়ার লাশ সকল আইনি প্রক্রিয়া মেনে কবর থেকে উত্তোলন করে ত্রিপুরায় তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে পারব।

২৫ জুলাইয়ের ওই বন্দুকযুদ্ধ প্রসঙ্গে র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) মিমতানুর রহমান বলেছিলেন, কুমিল্লা থেকে একটি প্রাইভেট কারে মাদকদ্রব্য আসছে বলে খবর পেয়ে খুলশী রেল গেটে র‌্যাবের টহল দল গাড়িটি থামায়। সে সময় গাড়ি থেকে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। র‌্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি করেন। এরপর ঘটনাস্থলে তিনজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। গাড়ি থেকে ১২০ কেজি গাঁজা, দু’টি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছিল।

ওই সময় তাৎক্ষণিকভাবে র‌্যাব দুজনের পরিচয় নিশ্চিত করে বলেছিল, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের ডালিম শেখ (২৯) ও মো. জাকির হোসেন (৩১)। ডালিমের বিরুদ্ধে ঢাকার যাত্রাবাড়ি ও কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানায় দুটি এবং জাকিরের বিরুদ্ধে ঢাকার ওয়ারী থানায় একটি মাদকের মামলা রয়েছে বলে মিমতানুর জানান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খুলশী থানার এস আই মোহাম্মদ নোমান একুশে পত্রিকাকে মঙ্গলবার রাতে বলেছেন, ‘সোমবার রাতে ভারতীয় দূতাবাস থেকে তার ছবি ও পাসপোর্টের কপি দিয়ে আমাদের জানানো হয়েছে। র‌্যাবের সঙ্গে বন্ধুকযুদ্ধে নিহত তিনজনের মধ্যে অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিটি ভারতের ত্রিপুরার সেলিম মিয়া। তবে তার মরদেহ যদি ফিরিয়ে নিতে চায় পরিবার সেটি আইনী পথেই যেতে হবে। কেননা তার মরদেহ দুদিন আগে বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম দাফন করেছে।’

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে একটি আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি আমরা স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাচ্ছি। বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়মগুলো অনুসরণের পর এ ব্যাপারে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

একুশে/এডি/এটি