চট্টগ্রাম: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আন্দোলন থেকে নিস্ক্রিয় করতে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।
বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুৃরীর মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নাসিমনভবনস্থ দলীয় কার্যালয় মাঠে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. শাহাদাত বলেন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মতো একজন দেশবরেণ্য ও পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে বানোয়াট অডিও ফোনালাপ ব্যবহার করে সরকার তাদের অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার শেষ চেষ্টা করছে। আন্দোলন সংগ্রামে তার সক্রিয় ভূমিকা থাকার কারণে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে। সরকার আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন করার যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে এটা সেই ষড়যন্ত্রেরই অংশ। আমির খসরুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র চট্টগ্রামবাসী রুখে দেবে।’
ডা. শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের দাবী কোন দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির ছিল না, তাদের দাবী ছিল সার্বজনীন। অথচ এ আন্দোলনে কোন সংগঠন ঢুকেছে বলে অবৈধ ক্ষমতাবিলাসীরা নৃশংস আক্রমণ শুরু করে রক্ত ঝরিয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। প্রতারণা ও প্রলোভনের কৌশলে ব্যর্থ হয়ে তারণ্যের আন্দোলনকে এরা সব সময় নির্মম নিষ্ঠুরতায় দমন করেছে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে যে সাজা দেওয়া হয়েছে তা বিচারের নামে অবিচার হয়েছিল। আইনের শাসন, গণতন্ত্র, ভোটধিকার ও ন্যায়বিচার আজ ভুলুন্ঠিত। সারাদেশে ছাত্র সমাজ ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ও দেশে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে রাজপথে নেমে এসেছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমাতে ব্যর্থ হয়ে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মিথ্যা অডিও ফোনালাপ প্রচার করছে। দেশে কোন যৌক্তিক আন্দোলন শুরু হলেই সরকার অডিও প্রচার করে বিএনপি নেতাদের দোষারোপ করে।
নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, সরকার তাদের অপকর্মের কৌশল হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অডিও ফোনালাপ প্রচার করেছে। দেশের জনগণ তাদের এ অপকৌশল বুঝে গেছে। আওয়ামীলীগের ভিত নড়ে গেছে, তাদের আর শেষ রক্ষা হবে না। অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে নি:শর্ত মুক্তি দিতে হবে।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি আলহাজ্ব এম এ আজিজ, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, হাজী মো: আলী, জয়নাল আবেদীন জিয়া, সুবক্তিগীন সিদ্দীকি মক্কি, হারুন জামান, সফিকুর রহমান স্বপন, সৈয়দ আহমদ, সাবেক কমিশনার মাহাবুবুল আলম, এডভোকেট মফিজ উল হক ভূঁইয়া প্রমুখ।