চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় সুমী রানী শীল নামের এক গৃহবধূকে হত্যার পর লাশ পুড়ানোর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার রায় ঘোষণা করা হবে ১১ আগস্ট। এই মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের দিন ঘোষণা করেন চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক রফিকুল ইসলাম।
বাদি পক্ষের আইনজীবি এডভোকেট সাধনময় ভট্টাচার্য্য বলেন, পুজা (৯) ও পুষ্প (৭) নামের দুটি কন্যা সন্তানের জননী ছিলেন নিহত সুমী রানী শীল। আসামিরা পরিকল্পিতভাবে সুমীকে খুন করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্ঠা চালিয়েছিল।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ১১ জানুয়ারি চন্দনাইশের দক্ষিণ হাশিমপুর শীলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কার্তিক শীলের ছেলে দিন্টু শীলের সঙ্গে পটিয়া উপজেলার প্রদীপ শীলের মেয়ে সুমীর বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পর দিন্টু বিদেশে চলে যান। এরপর শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুমীর ওপর নির্যাতন শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালের ৩০ মার্চ সকালে সুমীর শাশুড়ি বাসনা শীল ও দেবর মিঠু শীল তার ওপর নির্যাতন চালান। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরপর তারা সুমীর শরীরে আগুন লাগিয়ে দেন। পরে তারা এটিকে আত্মহত্যা বলে এলাকায় প্রচার করতে থাকেন। বিষয়টি সুমীর বাপের বাড়িতে না জানিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন লাশ দাহ করার প্রস্তুতিও নেন। খবর পেয়ে সুমীর বাপের বাড়ির লোকজন চলে এলে তাদের সব আয়োজন ব্যর্থ হয়ে যায়। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সুমীর শাশুড়ি ও দেবর পালিয়ে যান। এ ঘটনায় সুমীর বাবা প্রদীপ শীল বাদী হয়ে শ্বশুর কার্তিক শীল, শাশুড়ি বাসনা শীল, দেবর মিঠু শীল ও ননদ টুম্পা রানী শীলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ৫ জুলাই আদালতে চার্জশিট দাখিল করে চন্দনাইশ থানার পুলিশ। এরপর ২০১২ সালের ২৫ এপ্রিল অভিযোগ গঠন করা হয়। ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আদালত বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করবেন।