২৭ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬, বুধবার

আনোয়ারায় জেল হত্যা দিবসে কর্মসূচি ছিল না আ.লীগের, ক্ষোভ

প্রকাশিতঃ রবিবার, নভেম্বর ৪, ২০১৮, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম: জেলহত্যা দিবসে জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানকে স্মরণ করেনি আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগ; এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাসীন দলটির তৃণমূল নেতা-কর্মীরা।

তবে আনোয়ারার পাশের উপজেলা কর্ণফুলীতে জেল হত্যা দিবসে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নিহত জাতীয় চার নেতাকে স্মরণ করা হয়েছে।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের শীর্ষ চার সংগঠক তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার এবং ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের হত্যা করা হয়।

প্রতিবছরের মত এবারও জেল হত্যা দিবসে সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগ। বড় আকারে না হোক, সীমিত পরিসরেও দিনটি পালন না করায় তৃণমূল নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ।

জেল হত্যা দিবসের মত গুরুত্বপূর্ণ দিবসটি পালন না করার কারণ হিসেবে আনোয়ারায় দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টিই আলোচনায় আসছে।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২১ অক্টোবর আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে এম.এ মান্নান চৌধুরীকে সভাপতি ও এম.এ মালেককে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

ওই সময় কমিটির নেতাদের তিন মাসের মধ্যে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল; কিন্তু কাজটি এখনো তা করতে পারেননি তারা।

ওই কমিটিতে এস.এম আলমগীর চৌধুরী, এডভোকেট হরিপদ চক্রবর্ত্তী, তৌহিদুল হক চৌধুরী, মো. জাফর উদ্দিন চৌধুরী, মামুনুর রশিদ চৌধুরী আশরাফ, ফজলুল করিম চৌধুরী বাবুল, মৃণাল কান্তি ধর, আবু তাহের কন্ট্রাক্টর, মাহফুজুর রহমান, জানে আলম, আবু ছৈয়দ, মো. সোলাইমান, পুলিন বিহারী নাথ, মহিউদ্দিন আহমদ চৌধুরী টিপু, এইচ.এম নজরুল ইসলাম, মো. কলিম উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন আহমদ, মো. শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, এড. নুরুল হক, হাফেজ আবুল হাসান কাশেম, মো.নজরুল আনসারী মুজিব, দোলন মজুমদার, মো. আলমগীর, এম কাইয়ুম শাহ, মো. ইয়াছিন হিরু, মো.বোরহান উদ্দিন চৌধুরী মুরাদ, এড.সালাউদ্দিন আহমদ চৌধুরী লিপু, মো. আবদুর রহিম মেম্বার, মো.ছগির আহমদ আজাদ, অসীম কুমার দেব, মো. সালামত উল্লাহ, মো. ইদ্রিস, মো. আবদুল আজিজ ও রাশেদুল ইসলাম রাসেলকে সদস্য করা হয়।

এর আগে ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর কাজী মোজাম্মেলকে সভাপতি ও এম.এ মান্নান চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের ২৭ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষিত হয়েছিল। ওই কমিটি গঠনের পর থেকে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সভাপতি-সম্পাদক অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। পরবর্তীতে গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে বিরোধ বাড়লে কাজী মোজাম্মেলকে বাদ দিয়েই সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিল উপজেলা আওয়ামী লীগ।

উপজেলা এডহক কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জেল হত্যা দিবসের মত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে না পারাটা আমাদের জন্য চরম লজ্জাজনক।

আরেকজন সদস্য বলেন, নবগঠিত কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগ বেশ জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে দিনটি পালন করলেও আমরা পারিনি। এ কষ্ট সহ্য করাও কঠিন।

ওই সদস্য আরও বলেন, ভূমি প্রতিমন্ত্রীর মত একজন সৎ ব্যক্তি আজ আমাদের কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ মালেক ও সভাপতি এম এ মান্নানের মুঠোফোনে কল করা হলেও তারা কল না ধরায় বক্তব্য জানা যায়নি।