
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতাও এখন তারেক রহমান। কারণ সিদ্ধান্ত তো ড. কামাল হোসেন দিতে পারেন না। সিদ্ধান্ত দেন তারেক রহমান।
শনিবার (২৪ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
স্কাইপে তারেক রহমান মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাথে সাক্ষাৎকারের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেক রহমান বিএনপির সব মনোনয়নপ্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন স্কাইপসহ নানারকম অ্যাপস এর মাধ্যমে। আজকের কাগজও দেখতে পেলাম মনোনয়ন ফাইনাল করবেন নাকি তারেক রহমান। এর অর্থ তাদের নেতা হচ্ছে তারেক রহমান। তারেক রহমান নাকি প্রধানমন্ত্রী হবে। ড. কামাল হোসেনের বিষয়ে শুনলাম, তাকে নাকি রাষ্ট্রপতি করা হবে। তারেক রহমানের মতো দুর্নীতিবাজ, ঘৃণিত এবং যার নেতৃত্বে ২১ শে আগস্টে গ্রেনেড হামলা হয়েছে, তারা তাকে যে প্রধানমন্ত্রী বানাতে চায় তার আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশন বিএনপির পক্ষে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে। বিএনপির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা ক্রমাগতভাবে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে অভিযোগ করছে- আমরা নাকি আচরণবিধি লঙ্ঘন করছি। তারেক রহমান,যার ১০ বছর কারাদণ্ড হয়েছে, আরেকটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে, সে কীভাবে একটি দলের প্রার্থী ঠিক করে; নির্বাচন কমিশনের কাছে আমার প্রশ্ন। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, তারেক রহমানের এই সাক্ষাৎকার নেওয়া বন্ধ না করে বিএনপির পক্ষে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে। নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল এই সাক্ষাৎকার গ্রহণ বন্ধ করা। এ ব্যাপারে কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে।
ড. হাছান মাহমুদ আরো বলেন, এ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মওদুদ আহমেদ সাহেব গতকাল বললেন যে, নির্বাচন থেকেই নাকি আওয়ামী লীগ দাঁড়াতে চায়। আসলেই একথা বলার মাধ্যমে মওদুদ সাহেব বলে ফেলেছেন যে, তাদেরও চিন্তা-ভাবনা আছে নির্বাচন থেকে পালানোর। এবং তারা নির্বাচনি মাঠে নেমে বুঝতে পেরেছেন মাঠ তাদের অনুকূলে নাই। এটা বুঝতে পেরেই এখন নির্বাচন থেকে পালাতে চান কিনা এটাই হচ্ছে বড় বিষয়। আমি তাদের অনুরোধ জানাব, দয়া করে আপনারা নির্বাচন থেকেও পালাবেন না।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, পীযূষ বন্দোপাধ্যায়,মোল্লা জালাল, চিত্রনায়িকা ফারহানা আমীন নতুন, অরুনা বিশ্বাস, কণ্ঠশিল্পী এস ডি রুবেল, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।
একুশে/আরএইচ