বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

চেয়ারপারসন ছাড়া নির্বাচনে এই প্রথম : ফখরুল

খালেদার মনোনয়নের চিঠি হস্তান্তরের মধ্যে দিয়ে বিএনপির প্রত্যয়নপত্র দেওয়া শুরু
| প্রকাশিতঃ ২৬ নভেম্বর ২০১৮ | ৬:১৩ অপরাহ্ন

ঢাকা : তিন আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়নের চিঠি হস্তান্তরের মধ্যে দিয়ে সোমবার বিকেলে ধানের শীষের প্রার্থীদের প্রত্যয়নপত্র দেওয়া শুরু করেছে বিএনপি। এ সময় বিএনপির দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাসের কথা মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়েন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তখন অশ্রু ভেজা চোখে ফখরুল বলেন, এই প্রথম আমরা একটা নির্বাচন অংশ নিতে চলেছি আমাদের চেয়ারপারসনকে ছাড়া। কান্না চাপতে না পেরে এক পর্যায়ে তিনি টিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেন এবং পকেট থেকে রুমাল বের করে চোখ মোছেন।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের পাশাপাশি কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে বিএনপি কতটি আসনে নিজেদের প্রার্থী দিচ্ছে আর কতটি আসন জোট শরিকদের জন্য ছাড়ছে- সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনও আসেনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে থাকায় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরে এই প্রত্যায়নপত্র দেওয়া হচ্ছে।

বিকাল ৪টা থেকে বরিশাল বিভাগে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থীদের প্রত্যয়নপত্র দেওয়া শুরু হয়। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় রংপুর বিভাগের এবং রাত ৮টায় রাজশাহী বিভাগের প্রার্থীদের প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার কথা রয়েছে।

বগুড়া দুটি আসনে খালেদা জিয়ার পক্ষে জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করেন। এবার খালেদা জিয়াফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা প্রত্যেকটি আসনে দুইজন করে প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিচ্ছি। কোনো কারণে একজনের না হলে পরেরজন যাতে সুযোগ পান। আর আমাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ যেখানে যারা আছেন, সেখানে তারাই মনোনয়ন পেয়েছেন।

দুটি কারণে নির্বাচনে যাচ্ছি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারের প্রচণ্ড প্রতিহিংসামূলক মামলা ও কলা কৌশলে তাকে কারাগারে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা একটি আন্দোলন সৃষ্টি করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চাই, জনগণের ভোটাধিকার ফেরত আনতে চাই।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য এই নির্বাচনে অংশগ্রহণকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিয়ে এর মধ্য দিয়ে এই সরকারকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই, জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে এখন সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নেই। কেবল খালেদা জিয়া নয়, বিএনপি ও বিরোধী দলের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে কারাগারে রাখা হয়েছে, তারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা সম্ভব উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একটি দাবিতে সবাই একমত, দেশে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। যে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারবে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারকে দূর করে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী প্রাথমিক মনোনয়নের ক্ষেত্রে এক আসনে একাধিক প্রার্থীকে প্রত্যায়ন দেওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রতীক বরাদ্দের আগে দলের পক্ষ থেকে মনোনয়নের চূড়ান্ত তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। সেখানে যাদের নাম থাকবে, কেবল তারাই শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন, বাকিদের মনোনয়নপত্র বাদ যাবে।

একুশে/এসসি