বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

দেশ ক্রমশ রক্তপাতের দিকে যাচ্ছে : কর্নেল অলি

| প্রকাশিতঃ ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৫:০৩ অপরাহ্ন

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশ ক্রমশ রক্তপাতের দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমেদ বীরবিক্রম।

সোমবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক জরুরী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আশঙ্কার কথা গণমাধ্যমকে জানান।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের ১৬ টি আসনে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এতে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসনের প্রার্থী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান।

রক্তপাতের জন্য সরকার দায়ী থাকবে উল্লেখ করে কর্নেল অলি বলেন, জনগণকে রক্তপাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা চাই শান্তি। কিন্তু সরকার চায় অশান্তি। প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা আপনি। এদেশের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে আপনার। দেশকে ধবংসের দিকে ঠেলে দিবেন না। সুষ্ঠু, অবাধ ও এবং রক্তপাতহীন নিরেপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিন। কেউ চিরদিন বেঁচে থাকবে না, আমাদের সবাইকে এক সময় বিদায় নিতে হবে। সেই বিদায় যেন সম্মানজনক হয়।

তিনি বলেন, প্রশাসনের ভেতরে একটা আতঙ্ক কাজ করছে। কোন অফিসারকে ফোন করলে তারা ভয়ে ফোন ধরছে না। এখন আমরা যারা প্রার্থী তারা যদি রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে কথা বলতে না পারি তাহলে সমস্যার প্রতিকার কোথায় পাবো?

২০ দলীয় ঐক্যজোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কারো বিরুদ্ধে নয়-উল্লেখ করে কর্নেল অলি বলেন, কোনো প্রতিশোধমূলক ও প্রতিহিংসার রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাস করি না। আমাদের কোনো ডিমান্ড নাই, শুধু জনগণ যাতে নিরাপদে তাদের ভোটটা প্রয়োগ করতে পারে। কিন্তু সেটা হচ্ছে না, সেই পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না। প্রশাসন গণহারে গ্রেফতার করছে। হাতের কাছে যাকে পাচ্ছে তাকে ধরে নিয়ে কোর্টে পাঠাচ্ছে। জামিনের সময় হলে বিষ্ফোরক ও নাশকতার মামলা দিচ্ছে। যারা এসব করছে তাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনারা কোনো না কোনো ধর্মের অনুসারী। আপনারা সৃষ্টিকর্তাকে ভয় করেন না? যারা অন্যায় কাজে লিপ্ত তাদের জন্য খোদার তরফ থেকে শাস্তি নেমে আসবে। আপনারা কি দেখেন না, যারা পূর্ববর্তী অন্যায়কারী ছিল তাদের সন্তানদের অপমৃত্যু হয়েছে, স্ত্রীর অপমৃত্যু হয়েছে,পরিবারের সদস্যদের অপমৃত্যু হয়েছে। অনেকেই কারারবণ করেছে। এটা হলো আল্লাহর স্বাভাবিক শাস্তি। আমরা কারো কাছে কোনো অন্যায় আবদার করছি না।

নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি দাবি করে তিনি বলেন, আমরা কারো গান শুনে, কথা শুনে মুক্তিযুদ্ধে যাই নাই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং আমি সর্বপ্রথম চট্টগ্রাম থেকে বিদ্রোহ করি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের মানুষ যেন সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারে। আজকে মনে হচ্ছে আমরা নিজ দেশে পরাধীন।

বিচারকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিচারকরা হচ্ছেন আল্লাহর প্রতিনিধি। বিচার দেয়ার দায়িত্ব আপনাদের। আপনারা কারো কথায় কাজ করবেন না। যেটা ন্যায়, যেটা আইনি বই-পুস্তকে যা লেখা আছে তা মেনে কাজ করবেন-এটিই জাতি প্রত্যাশা করে।

পুলিশের উদ্দেশ্যে অলি বলেন, আপনারা আমাদের শত্রু না। সরকারেরও বন্ধু না। আপনারা জনগণের বন্ধু। দেশের মানুষের বন্ধু। সে হিসেবে সবাই যাতে ভোট দিতে পারে সে ব্যবস্থা করুন। ঘরে ঘরে গিয়ে ভয় দেখানো, মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কষ্ট দেওয়া এটা আপনাদের কাজ হতে পারে না।

এসময় তিনি জনগণকে জাগ্রত ও সচেতন হবার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য আগামী ১৫ দিন ঐক্যবদ্ধ থাকুন। তাহলেই এই জাতি মুক্তি পাবে। অন্যথায় দেশ গভীর সংকটে নিপতিত হবে।

একুশে/আরএইচ