বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

ব্লাঙ্ক রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ রিজভীর

| প্রকাশিতঃ ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১:৫২ অপরাহ্ন

ফাইল ছবি

ঢাকা : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, আমরা বিভিন্ন স্থান থেকে জানতে পারছি-উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছ থেকে ব্ল্যাংক রেজাল্ট শীটে স্বাক্ষর নিয়ে রাখছেন।

মঙ্গলবার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন রিজভী।

রিজভী বলেন, নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারণা শুরুর দিনেই বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর সশস্ত্র আক্রমণ শুরু করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা। বিভিন্নস্থানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীদের প্রচারণার মাইক ভাংচুর এবং বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর করেছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উপস্থিতিতেই আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপর গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে রক্তাক্ত করেছে।

তিনি বলেন, প্রচারণার শুরুতেই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ঢাকঢোল পিটিয়ে আইনশৃঙ্ঘলাবাহিনীর ছত্রছায়ায় মিছিল-সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ। এ মিছিল থেকে তারা রাস্তার ধারে বিএনপির অফিস দেখলেই সেই অফিসে হামলা চালিয়ে তছনছ করেছে।

নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলেও রাজধানীসহ সারাদেশে পুলিশী তাণ্ডব থেমে নেই বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন রিজভী। বলেন, বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি হামলা, গ্রেফতার ও গুম বন্ধ হচ্ছে না। পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ এখন ভয়ংকর আতংকের নাম। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী প্রচারণার ন্যূনতম পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত না করতে পারায় এসব হামলা হচ্ছে। সরব এবং নিরব সন্ত্রাসে জনগণের উদ্বেগ ও আতংক কাটছে না। কুষ্টিয়াতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের একজন নেতার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিএনপি’র কেউ ভোট চাইতে গেলে এই সন্ত্রাসী নেতা প্রকাশ্যে তাদের পিঠের চামড়া তুলে নেয়ার কথা বলেছেন। এই নেতাদের মতো অসংখ্য সন্ত্রাসীদেরকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নির্বাচনী মাঠে ছাড়া হয়েছে। বলেন রিজভী।

রিজভী বলেন, গতকাল সন্ধ্যা থেকে রাজধানীর কদমতলী থানা বিএনপি’র সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সহ-সভাপতি মীর হোসেন মীরু’র বাড়িতে একজন সহকারী পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশ হানা দিয়ে মীরুর কথা জিজ্ঞেস করে সে কোথায় আছে। পুলিশী এই অভিযান থেমে থেমে গভীর রাত পর্যন্ত চলে। তার পরিবারে মহিলারা ছাড়া আর কেউ ছিল না। তারা আতঙ্কে-উৎকন্ঠায় বারবার আমাকে ফোন করতে থাকে। আমরা এক আদিম অরণ্যের মাঝে বসবাস করছি। যারা জনগণের রক্ষক তাদেরকেই আজ সাধারণ মানুষ ভয় পাচ্ছে।

একুশে/আরসি/এটি