বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

চবির প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি যেন না হয়: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, মার্চ ১৪, ২০১৯, ৫:১৫ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশের যেন কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ছোট ছোট পাহাড়, লেক, বিস্তৃত সবুজ, গাছ-গাছালি এমন পরিবেশের বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীতে খুব কমই আছে। বিশ্বের অনেক নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার যাবার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু এমন মনকড়া, নজরকাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ আমি কোথাও পাইনি, দেখিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এতো সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ পৃথিবীর আর কোথাও নেই।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ বছর পার হয়েছে। আরো শত শত বছর ঠিকে থাকবে। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ জানাবো, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে একটি সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কোন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করেই করতে হবে।

এ সময় মঞ্চে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী মন্ত্রীকে জানালেন, ৫০ বছরের একটি পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার কথা বলা হয়েছে। এজন্য উপাচার্যকে ধন্যবাদ জানান তথ্যমন্ত্রী।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এতো বড় একটি ক্যাম্পাস, এখানে আসলে কারো মনে হবে জেলা শহরে এসেছি। কারণ নতুন যে জেলা শহরগুলো হয়েছে সেগুলোর চেয়ে এই ক্যাম্পাসের আয়োজন কোন অংশে কম নয়। অনেক জেলা শহরের চেয়ে এই ক্যাম্পাস বড়।

গবেষণা ও প্রকাশনার মাধ্যমে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকাশ হয় মন্তব্য করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, গবেষণার উপর বিশেষ করে রসায়ন বিভাগের আরো জোর দেওয়া প্রয়োজন। গবেষণার জন্য আরো ফান্ড সরকারের কাছে চাওয়া প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংখ্যার উপর রেটিং হয় না। গবেষণার মাধ্যমে একটি বিশ্ববিদ্যালয় অনন্য উচ্চতায় যেতে পারে। আমেরিকার কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে এতো গবেষণা হয়, সেখান থেকে এ পর্যন্ত ৩৪ জন নোবেল পুরস্কার পেয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে এখন কম্পিউটার সাইন্স, আইন ও বিবিএ পড়তে চায় বেশী। বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে কেউ সহজে চায় না। আমাদের সময়ে বাবারা ভালো ছাত্রদের রসায়ন, পদার্থ এগুলোই পড়াতেন। আমি মনে করি, রসায়ন পড়ার পর চাকরির অনেক সুযোগ রয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ৮০-র দশকে মালয়েশিয়ার ছাত্ররা আমাদের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে পড়তে আসতো। এখন আমাদের ছেলেরা সেখানে পড়তে যায়। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে অনেক আগেই উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছতো বাংলাদেশ। এরপরও আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটাকে উন্নয়নে অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। এতে পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধানমন্ত্রীর প্রাক্তন মুখ্য সচিব মো. আবদুল করিম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য ড. শিরীণ আখতার, চবি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সফিউল আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।