
চবি প্রতিনিধি : তথ্য-প্রযুক্তির বিকাশের কারণে সংবাদের মূল বিষয়ে পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের এক্সিকিউটিভ এডিটর খালেদ মহিউদ্দিন।
নান্দনিক সৌন্দর্যের আধার কক্সবাজারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস) কর্তৃক আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ক্যাম্পাস জার্নালিজম ফেস্ট’১৯ এর দ্বিতীয়দিনের অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়। দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে ছিল সাংবাদিকতা বিষয়ক দুটি লার্নিং সেশন, আলোচনা সভা, সাংবাদিকদের মতবিনিময় এবং কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ।
লার্নিং সেশনে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের এক্সিকিউটিভ এডিটর খালেদ মহিউদ্দিন বলেন, সাংবাদিকদের উপার্জন শতভাগ হালাল। কারণ তারা সারাদিন পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যান।
খালেদ মহিউদ্দিন বলেন, আগে সংবাদের বিষয় ছিল কী, কেন, কখন, কিভাবে ইত্যাদি৷ কিন্তু তথ্য-প্রযুক্তির বিকাশের কারণে এখন সেটার পরিবর্তন ঘটেছে। এখন এই ঘটনার প্রভাব কী সেটাই সংবাদের মূল বিষয়।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পৃথিবীতে সবচেয়ে অযোগ্য, অসমর্থ লোকেরাই চাকরির নিশ্চয়তা চায়। পরিবর্তনের যুগে নিজের সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিজেকে গড়ে নিতে হবে। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার প্রতিবন্ধকতা আর জাতীয় সাংবাদিকতার প্রতিবন্ধকতা আলাদা কিছু নয়। ক্ষমতাবানদের সাথে সাংবাদিকদের দ্বন্দ্ব চিরকালীন। এই পেশায় চাপ থাকবেই। এ থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হচ্ছে সৎ থাকা।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের আওতা কেবল ক্যাম্পাস এরিয়া নয়, যেকোন অনিয়ম সারাদেশের পাঠক, শ্রোতার প্রতি লক্ষ্য রেখেই তুলে ধরতে হবে। সবসময় তোমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সাংবাদিকতা। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা ইন্টার্নির মত। এটিকে দায়িত্ব নয়, উপভোগের বিষয় হিসেবে নিতে হবে।
‘সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে। বস্তুনিষ্ঠতা ছাড়া সাংবাদিকদের আর কোন পুঁজি নাই। এক্ষেত্রে একজন সোর্স থেকে তথ্য নিলে হবে না। একাধিক সোর্সের কাছ থেকে নিশ্চিত হতে হবে। সাংবাদিকতা করার সময় বিশ্লেষণ বাদ দিতে হবে৷ রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে আবেগ, রাগ- অনুরাগ, ভালবাসা পরিহার করতে হবে। আউট অব কনটেক্সটের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সচেতন থাকতে হবে। আর অভিযুক্তের বক্তব্য না পেলে রিপোর্টই হবে না।’
প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় মানুষের আগ্রহ কমে যাওয়ার ব্যাপারে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের এক্সিকিউটিভ এডিটর খালেদ মহিউদ্দিন বলেন, আমাদের জিনিস ইন্টারেস্টিং না সেজন্য মানুষ দেখছে না। মানুষ ইন্টারেস্টিং জিনিস দেখে।
এছাড়াও লার্নিং সেশনে ‘ক্যাম্পাস ও মূল ধারার সাংবাদিকতার পার্থক্য’ বিষয়ে বক্তব্য দেন চবিসাসের সাবেক সভাপতি, সময় টিভির জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এহসান জুয়েল। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী।
এর আগে গতকাল সোমবার ‘সম্পর্কের পুনঃনির্মাণ, সমৃদ্ধির দিকে ধাবমান’ এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের নিয়ে দুদিনব্যাপী উৎসবের শুরু হয়। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাবসায় প্রশাসন অনুষদ প্রাঙ্গনে উক্ত জার্নালিজম ফেস্টের শুরু হয়ে সাংবাদিকতা বিষয়ক দুটি লার্নিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝাউতলায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।