শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

২৮ বছর পর আলোর মুখ দেখছে চাকসু, কাল কমিটি গঠন

প্রকাশিতঃ বুধবার, মার্চ ২০, ২০১৯, ৯:২৮ অপরাহ্ণ

চবি প্রতিনিধি : অবশেষে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর ডাকসুর মতো আলোর পথ দেখছে চাকসু। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে হয়নি এই কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচন। সর্বশষ যখন চাকসু নির্বাচন হয়েছিলো তখন ক্ষমতায় ছিলো জাতীয় পার্টি। এরপর বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় থাকা কালে চাকসুর কোনো নির্বাচন হয়নি। এবার সেই জড়তা কাটিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চাকসু নির্বাচন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২০মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রভোস্টদের নিয়ে একটি সভায় চাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। সভায় চাকসু নির্বাচনের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চাকসু নির্বাচনের নীতিমালা অনেক পুরনো। তাই সাম্প্রতিক সময়ে অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রণীত নীতিমালা বিশ্লেষণ করে চাকসু নির্বাচনের নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

এ বিষয়ে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী জানান, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি চাকসু নির্বাচন করব। আমাদের নীতিমালাগুলো অনেক পুরনো, তাই নীতিমালা প্রণয়নের জন্য আগামীকাল একটি কমিটি গঠন করা হবে। তারপরে আমরা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা দেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। অনেকের কাছে এটি একটি ক্যান্টিন হিসেবে পরিচিত। আবার কেউবা মনে করেন এটি সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্র। তবে বেশ কিছুদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলো চাকসু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করায় চাকসু সম্পর্কে এই ভুল ধারণা অনেকটা কেটেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শর্তের বেড়াজালে বিলীন হচ্ছিলো চাকসু নির্বাচনের স্বপ্ন।

এদিকে চাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের আগ্রহকে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে কাজ করছে বাড়তি উত্তেজনা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এ.এফ রহমান হলের শিক্ষার্থী আখতারুজ্জামান মুরাদ বলেন, চাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের আগ্রহের কথা শুনে নিজের কাছে খুব ভালো লাগছে। গত কিছুদিন ধরে ডাকসু নিয়ে সারাদেশে চলছিলো তোলপাড়। তখন নিজেদের অনেক খারাপ লেগেছে এই ভেবে যে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরও চাকসু নির্বাচন হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, আমি আশা করি প্রশাসন যেহেতু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে অতিতাড়াতাড়ি একটি সুষ্ঠ পরিবেশে চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার আদায় করতে সক্ষম হবে।

একুশে/আইএস/এসসি