সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

ডাকসুর মতো প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন চায় না চবি শিক্ষার্থীরা

| প্রকাশিতঃ ২৫ মার্চ ২০১৯ | ৫:৩৭ অপরাহ্ন


ইফতেখার সৈকত : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হোক এবং সব ছাত্র সংগঠন তাতে অংশ নিক, এটাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীরা দেখতে চায়। চবি শিক্ষার্থীরা একেবারেই চায় না, ডাকসুর মতো চাকসু নির্বাচন কোনোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হোক।

প্রায় তিন দশক পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কোন শিক্ষার্থীরই চাকসু নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নেই। তাই এ বিষয়টি নিয়ে একটু বাড়তি উত্তেজনা বিরাজ করছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

শিক্ষার্থীদের চাওয়া একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য চাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হোক।

চাকসু নির্বাচনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের (১৭-১৮) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সানজিদা আলম একুশে পত্রিকাকে বলেন, ২৮ বছর পর চাকসু নির্বাচন হচ্ছে। যা আমাদের জন্য সৌভাগ্যে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবো।

এক প্রশ্নের জবাবে এই শিক্ষার্থী বলেন, যে কোনো আন্দোলন কিংবা যৌক্তিক দাবি আদায়ের বেলায় প্রতিবারই চবির শিক্ষার্থীরা হতবিহব্বল অবস্থায় থাকে। তারা কখনো একজোট হতে পারেনা। চাকসু নির্বাচনে এমন এক ছাত্র প্রতিনিধি চাই যিনি শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হবেন। অসৎ, সাম্প্রদায়িক, সংকুচিত মানসিকতার কাউকে চাইনা।

আরেক প্রশ্নের জবাবে এই শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু এবং কারচুপিমুক্ত চাকসু নির্বাচন চাই। চাকসুতে এখন চবির শিক্ষার্থীরা যায় শুধুমাত্র কমদামে চা-খিচুড়ি খেতে। ২৮ বছর পর নির্বাচন হচ্ছে। ডাকসু নির্বাচনের মতো স্রেফ নির্বাচনের খাতিরে যেন চাকসু নির্বাচন না হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (১৬-১৭) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল নোমান একুশে পত্রিকাকে বলেন, চাকসু নির্বাচনে স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থাকা চাই। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচন করতে পারে সে ব্যাপারে প্রশাসনকে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এবং আমরা ওই রকম প্রতিনিধি নির্বাচন করতে চাই; যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবে। সেই প্রতিনিধি শাটল ট্রেনের সংকট, হলের আবাসন সংকট, ডাইনিং এবং কেন্টিনের খাবারের মানোন্নয়নসহ শিক্ষার্থীদের সকল ধরনের সমস্যা সমাধানে কাজ করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের (১৭-১৮) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফরহাদ ওয়েসি একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমরা চাই চাকসু নির্বাচনে প্রতিটা ছাত্রসংগঠন নির্ভয়ে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাক। চবি প্রশাসন যাতে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ সুশৃঙ্খল একটা নির্বাচনের ব্যাবস্থা করে। আমাদের এই কাঙ্খিত চাকসুর মাধ্যমে আমাদের প্রত্যেকের অধিকার যাতে প্রতিষ্ঠিত হয়। ডাকসুর মতো প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন আমরা চাইনা। আমরা সবাইকে দেখাতে চাই আমরা সত্যের পথে।

চাকসু নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী সাহাবউদ্দীন ফাহিম একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমরা চাই একটু সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের গ্রহণযোগ্য প্রতিনিধি থাকবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে যারা কাজ করবে আমরা তাকে ভোট দিবো।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাকসু নির্বাচনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর ইতিমধ্যে চাকসু নির্বাচনের নীতিমালা পর্যালোচনার পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের এই কমিটি অতি শিঘ্রই গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা করে নতুন গঠনতন্ত্র তৈরি করবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গঠনতন্ত্র তৈরির পরই নির্ধারিত হবে চাকসু নির্বাচনের পরবর্তী কার্যক্রম।