২৭ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬, বুধবার

শিক্ষামন্ত্রীকে ফুল দিতে যাওয়া ছাত্রলীগ নেতাদের ‘চাঁদাবাজ’ বললেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ বুধবার, এপ্রিল ৩, ২০১৯, ৪:৫২ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : রোববার (৩১ মার্চ) দুপুরে নগরের দি কিং অব চিটাগাং-এ অনুষ্ঠিত হয় পোর্ট সিটি ইউনিভার্সিটির প্রথম কনভোকেশন অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি ছিলেন যথাক্রমে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

অনুষ্ঠান শেষ করে গাড়িতে উঠার সময় পোর্ট সিটি ইউনিভার্সিটি ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা শিক্ষামন্ত্রীকে ফুল দিতে এগিয়ে যান। এসময় তাদের বাঁধ সাধেন বিশ্ববিদ্যালয়টির চেয়ারম্যান, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম।

এরপর শিক্ষামন্ত্রীকে বিদায় দিয়ে ফুল দিতে যাওয়া ছাত্রলীগ নেতাদের ‘একহাত’ নেন এনামুল হক শামীম। এসময় তাদের ‘চাঁদাবাজ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সংক্রান্ত এনামুল হক শামীমের একডি অডিও ক্লিপে দেখা যায়, উপমন্ত্রী বেজায় নাখোশ হয়েছেন ছাত্রলীগ নেতাদের ফুল দিতে যাওয়ার ঘটনায়। তিনি বলছেন, কতবড় সাহস তোমাদের! তোমরা কীসের ছাত্রলীগ! চাঁদাবাজি করো। ফুল দেয়ার ছবি তুলে চাঁদাবাজি করবে, তাই না! আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বলে সবাই এখন ছাত্রলীগ। কদিন পর ছাত্রদল, ছাত্রশিবির করবা। বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাদের নেতাদের নামে মিছিল করবা।

এসময় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে নিজের নেতা দাবি করে ছাত্রলীগ নেতাদের উপমন্ত্রী বলেন, আ জ ম নাছির ভাই আমারও নেতা। তোমরা ওনার নাম বিক্রি করে ভাবমূর্তি নষ্ট করছো। আমার প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করছো।

অডিও ক্লিপে এনামুল হক শামীমকে বলতে শোনা যায়, কতবার বলেছি আমার ক্যাম্পাস হবে ধূমপানমুক্ত, রাজনীতিমুক্ত। তোমাদের কত সাহস! এখানে ছাত্রলীগ করো, নাছির ভাইয়ের নাম বিক্রি করো।

বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের চারজন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক জড়িত জানিয়ে উপমন্ত্রী বলেন, ছাত্রলীগ করে আমরা হাত ভেঙেছি, পা ভেঙেছি, মাজা ভেঙেছি।

ভবিষ্যতের জন্য তাদেরকে সাবধান করে দিয়ে উপমন্ত্রী বলেন, এরপরও যদি এসব করো তাহলে আমি তোমাদের সার্টিফিকেট বাতিল করে দেবো। এসময় তিনি ফুল দিতে যাওয়া ছাত্রদের চিনে রাখতে উপস্থিত পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের লোকজনকে নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, কয়েকবছর আগে পোর্ট সিটি ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রলীগের শক্তিশালী একটি কমিটি হয়। কমিটির নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তারা ক্যাম্পাসে সক্রিয় থেকে বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে এবং শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।

এ প্রসঙ্গে পোর্ট সিটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা বলেন, অনুষ্ঠানের আগের দিন আমরা প্রিয় নেতা, নগর পিতা আ জ ম নাছির ভাইয়ের সাথে দেখা করতে যাই। শিক্ষামন্ত্রীকে আমরা ফুল দিতে চাই জানালে তিনি আমাদের ‘না’ করেননি।

তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি যাতে বিঘ্নিত না হয় সে বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা ক্যাম্পাসের বাইরে ছাত্রলীগের ব্যানারে গঠনমূলক কর্মসূচি পালন করে আসছি। এর আগেও প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে আমরা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ফুল দিয়েছিলাম শামীম স্যারের সামনে। তখন ওনি কিছু বলেননি। এবারই প্রথম রেগে গেলেন, ক্ষোভ ঝারলেন।

শামীম স্যার চেয়ারম্যান, যোগ্য অভিভাবক। কাজেই তাঁর চাওয়া এবং সিদ্ধান্ত আমাদের কাছে শিরোধার্য। তিনি যেভাবে চান সেভাবেই আমরা পরিচালিত হবো। বলেন ছাত্রলীগ নেতারা।

একুশে/এসসি/এটি