২৬ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬, মঙ্গলবার

চা দোকানি পরিচয় দিয়েও পুলিশের হিংস্রতা থেকে রেহাই পায়নি জামাল

প্রকাশিতঃ রবিবার, এপ্রিল ৭, ২০১৯, ১১:১৯ অপরাহ্ণ

চবি প্রতিনিধি : কুমিল্লার অধিবাসী জামাল (৪৫) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহারওয়ার্দী হলের পাশে একটি চা দোকানের কর্মী। চেহারা সৌষ্টব আর কাপড়ছোপড়ই বলে দেয় তিনি ছাত্র নন, খেটে খাওয়া মানুষ। পুলিশ যখন ঝাঁপিয়ে পড়ে তখনও জামাল বারবার বলছিলেন, ‘স্যার, আমি ছাত্র নই, চা দোকানে কাজ করে খাই, আমাকে মাইরেন না’। এরপরও বাঁচতে পারেননি জামাল। রক্তাক্ত হয়েছে তার শরীর। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রোববার আন্দোলনকারী ছাত্রদের উপর পুলিশের হিংস্রতার ঢেউ এভাবেই আছড়ে পড়ে জামালের শরীরে।

পরিবার চালাতে কুমিল্লা থেকে এসে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি চায়ের দোকানে কারিগরের কাজ নেন জামাল। আগের দিন থেকে ক্যাম্পাসে অপ্রীতিকর ঘটনা দেখে রোববার সকাল থেকে দোকান বন্ধ রাখা হয়। তবে দোকানের আসবাপত্রগুলো সুরক্ষিত রাখতে দুপুরের দিকে একবার দোকানে যান জামাল। আসবাপত্র দোকানের পেছনের দিকে সরানোর চেষ্টা করেন।

এসময় ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের উপর লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল ছোড়ে পুলিশ। জামাল প্রাণ বাঁচাতে ছুটে যান দোকানের পেছনে। এসময় তার পিছু নেয় পুলিশ। পুলিশকে চা দোকানের কারিগর বলে বাঁচার চেষ্টা করেন জামাল। এরপরেও পুলিশ তাকে ছাড় দেয়নি। টিয়ারশেলের আঘাতে জাজরা করে দেয় তার পিঠ। এসময় সোহারওয়ার্দী হল ক্যাফেটেরিয়ার পাশে আজিজও (৪৮) নামে আরেক দোকানদার টিয়ারসেলে রক্তাক্ত হন।

আহত জামাল একুশে পত্রিকাকে বলেন, দোকানের জিনিসপত্র সরিয়ে রাখার সময় পুলিশের আক্রমণ দেখতে পেয়ে দোকানের পেছনে পালিয়ে যাই আমিসহ আরও কয়েকজন দোকানদার। এসময় আমাদের আশেপাশে কোনো ছাত্র ছিলো না। আমি পুলিশকে দোকানদার পরিচয় দেই। তবুও পুলিশ আমার উপর গুলি চালায়। আমি গরীব মানুষ, আমাকে মেরে পুলিশের কী লাভ হলো-জানতে চান জামাল।

রোববার (৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে আটটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ছয় কর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা অস্ত্র মামলা প্রত্যাহারসহ নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ছাত্রলীগের কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রধর্মঘটের ডাক দেয়। প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। জিরো পয়েন্টে অবরোধ কর্মসূচি পালনের সময় পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে আন্দোলনকারীরা। এক পর্যায়ে শুরু হয় পুলিশের লাঠিচার্জ। এসময় পুলিশ রাবার বুলেট ও জলকামান ব্যবহারসহ প্রায় ৩০ রাউন্ড টিয়ারসেল ছোঁড়ে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মী, পুলিশ ও দোকানদারসহ প্রায় ২০ জন আহত হন। আটক হয় দুই আন্দোলনকারী।

একুশে/আইএস/এটি