২৫ জুন ২০১৯, ১০ আষাঢ় ১৪২৬, সোমবার

পেশাদার, যোগ্য ব্যক্তিরাই বিটিভিতে অনুষ্ঠান নির্মাণে অগ্রাধিকার পাবে : তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ শনিবার, এপ্রিল ১৩, ২০১৯, ৩:৩১ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে মানসম্পন্ন অনুষ্ঠান-নির্মাণে কোনো আপস করা হবে না জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রে যেনতেনভাবে, তদবির করে যে কেউ আর অনুষ্ঠান করতে পারবে না। পেশাদার, যোগ্য ব্যক্তিরাই অনুষ্ঠান নির্মাণে অগ্রাধিকার পাবে। একই সঙ্গে এক ব্যক্তি একাধিক অনুষ্ঠানের সুযোগ পাবে না। কেবল যিনি মানসম্পন্ন অনুষ্ঠান নির্মাণে সক্ষম, তিনিই একাধিক অনুষ্ঠান করতে পারবেন। মানসম্পন্ন অনুষ্ঠান উপহার দিয়ে চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য সারাদেশের মানুষের কাছে উপস্থাপন করতেই বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সময়সীমা ৯ ঘণ্টায় উন্নীত করা হচ্ছে। আগামি ডিসেম্বর নাগাদ ১২ ঘণ্টায় উন্নীত হবে।

মন্ত্রী শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ৬ ঘণ্টা অনুষ্ঠানকে ৯ ঘণ্টায় উন্নীতকরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র ৩ মাস ৭ দিন। দায়িত্ব নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যেই আমি চট্টগ্রাম টেলিভিশনের সম্প্রচারের সময় ৬ ঘণ্টা থেকে ৯ ঘণ্টায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেই। তিনমাসের মাথায় আজ সেটির বাস্তবায়ন হচ্ছে, এটি চারটিখানি কথা নয়।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, দেশের বাকি ৬টি বিভাগীয় শহরে বিটিভির কেন্দ্র স্থাপন করার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। একনেক ইতোমধ্যে এ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। সব মিলিয়ে বিটিভির নেটওয়ার্ককে আমরা এমন জায়গায় উন্নীত করতে চাই- আগে যেভাবে মানুষ ঘরে ঘরে বিটিভি দেখতো, আবার যেনো সেভাবে দেখে।

তিনি বলেন, তথ্যমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাবার পর ১৯৯৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রথমে শুধু ১ ঘণ্টার অনুষ্ঠান সম্প্রচার হতো। এরপর এই কেন্দ্রের অনুষ্ঠান ৩ ঘণ্টায় উন্নীত করা হয়। সেসময় চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকে সম্প্রচার করা অনুষ্ঠান ঢাকা কেন্দ্রে দেখা যেতো না। তারপর চট্টগ্রাম কেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রে রূপান্তর করার জন্য ৪৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে সম্প্রচার ৬ ঘণ্টায় উন্নীত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে ক্যাবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ক্যাবল টেলিভিশন চ্যানেল হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করে। এখন সারাদেশে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান দেখা যায়। আমি নিজেও ঢাকায় বসে এই কেন্দ্রের অনুষ্ঠান দেখি।

একটি আধুনিক স্টুডিও নির্মাণের পাশাপাশি চট্টগ্রাম টেলিভশন কমপ্লেক্স অভ্যন্তরে এফডিসির একটি আউটলেট করারও ঘোষণা দেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, এখান থেকে শর্টফিল্মসহ স্বল্পদৈর্ঘ ছবি নির্মিত হবে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রকে যুগোপযোগী, আধুনিক ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ করে গড়ে তুলতে ৩৪২ টি পদে দক্ষ জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। সহসা চট্টগ্রাম টেলিভিশন কেন্দ্রকে টেলিস্ট্ররিয়াল সুবিধার আওতায় আনা হবে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমবান্ধব বলেই আজকে বাংলাদেশে টেলিভিশনের সম্প্রসারণ হয়েছে, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার বিস্তার ঘটেছে। গত ১০ বছরে পত্রিকা প্রকাশের সংখ্যা ৪০ শতাংশ বেড়েছে। ‘৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রথম বেসরকারি টেলিভিশনের দ্বার উন্মোচন করেন একুশে টেলিভিশনকে লাইসেন্স দেয়ার মাধ্যমে। বর্তমানে দেশে ৪৬ টি টেলিভিশন আছে। সম্প্রচারে আছে ৩৩টি। আরো কয়েকটি সম্প্রচারের অপেক্ষায়। এই যে গণমাধ্যম বিপ্লব- সেটি সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছায়। কোলকাতায়ও এত টেলিভিশন চ্যানেল নাই। এক্ষেত্রে আমরা কোলকাতা-পশ্চিমবঙ্গ থেকে এগিয়ে। ২০০৯ সালে আ’লীগ যখন সরকার গঠন করেন তখন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৪০ লাখ। বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৯ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় ৫ কোটি মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন। বলেন তথ্যমন্ত্রী।

তথ্যমন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুল মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হারুন অর রশিদ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সরকারি বেসরকারি পদস্থ কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের কলাকুশলীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ খ্যাতনামা শিল্পী তপন চৌধুরীসহ গুণী শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা এবং আদিবাসীদের বোতলনৃত্য উপভোগ করেন।

একুশে/এটি