
শ্রীলংকা: শ্রীলংকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার জেমস ডরিস কলম্বো থেকে টুইট বার্তায় লিখেছেন “আমি ও আমার পরিবার কলম্বোতে আছি। ইস্টার ডে-র সব আয়োজন আমরা বাতিল করেছি। হামলার শিকার পরিবারগুলোর প্রতি আমাদের সমবেদনা। ”
এদিকে শ্রীলংকায় রোববার হোটেল ও চার্চে বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১৩৭ জন নিহত হয়েছে।
রাজধানী কলম্বোতে এই হামলায় অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছে। নগরীর তিনটি হোটেল ও একটি চার্চে এ হামলা চালানো হয়েছে।
রাজধানীর উত্তরে নেগোম্বোর একটি চার্চে হামলায় আরো ৬৭ জন নিহত হয়েছে।
এদিকে দেশটির পূর্বাঞ্চলে বাট্টিকালোয়া শহরের একটি চার্চে আরো ২৫ জন নিহত হয়েছে।
বিস্ফোরণের ধরণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। কোন গোষ্ঠী বা সংগঠন এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি।
শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা এক বক্তৃতায় বলেন, এই হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনি স্তম্ভিত।
তিনি সকলকে শান্ত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে টুইট বার্তায় জানান, ‘আমি আজ আমাদের জনগণের ওপর এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’
কলম্বোর সেন্ট এন্থনী’স শ্রিন চার্চ ও রাজধানীর বাইরে নেগোম্বো শহরের সেন্ট সেবাস্টাইন’স চার্চে প্রথম বিস্ফোরণ দুটি ঘটে।

ছবি : রয়টার্স
সেন্ট অ্যান্থনীতে বিস্ফোরণে আহত রোগীতে সকালে কলম্বো ন্যাশনাল হসপিটাল ভরে গেছে।
বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে রাজধানীর তিনটি হোটেলে ও বাট্টিকালোয়ার একটি চার্চে হামলা চালানো হয়েছে।
এগুলোর মধ্যে একটি হোটেল হচ্ছে চিন্নামোন গ্র্যান্ড হোটেল। এটি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে অবস্থিত।
হোটেলের এক কর্মকর্তা বলেন, হোটেলের রেস্তোরাঁয় এ বিস্ফোরণ ঘটে।
বাট্টিকালোয়া হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, বিস্ফোরণের পর ৩শতাধিক লোককে আহত অবস্থায় এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শ্রীলংকার মিনিস্টার অব ইকোনোমিক রিফর্মেশন অ্যান্ড পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন হার্শা ডি সিলভা এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘কয়েক মিনিটের মধ্যেই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান চলছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দয়া করে শান্ত থাকুন। ঘরের বাইরে বেরুবেন না।’
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রীলংকায় মাত্র ছয় শতাংশ লোক ক্যাথলিক খ্রিষ্টান।