শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

পিটিয়ে চবি শিক্ষার্থীর পা ভেঙে দিয়েছে আরএনবি

প্রকাশিতঃ শনিবার, মে ১৮, ২০১৯, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ


চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের বটতলী রেলস্টেশনে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষার্থীর পা ভেঙে দিয়েছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) এক সদস্য। শুক্রবার বিকেলের এ ঘটনায় আহত রাইয়্যান আলম চবির রসায়ন বিভাগের ১৬-১৭ সেশনের ছাত্র।

অন্যদিকে অভিযুক্ত মশিউর রহমান রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীতে সিপাহী হিসেবে কর্মরত।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী রাইয়্যান আলম একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আজকে ইফতারের একটা পরিকল্পনা করেছিলাম ক্যাম্পাসে। সেজন্য ক্যাম্পাসে যেতে বিকালে বটতলী স্টেশনে গিয়েছিলাম। ঈদের আগে ক্যাম্পাসে আজ শেষ ট্রেন যাওয়ার কথা ছিল। গিয়ে দেখি ট্রেন যাচ্ছে না। ট্রেনে যখন ইঞ্জিন লাগানো নেই, আমি আর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন ছোট ভাই মিলে ওই ট্রেনের একটি বগিতে গিয়ে বসেছি, যেটাতে ইঞ্জিন লাগানোর কথা।’

‘হুট করে আরএনবির তিনজন সদস্য আসেন। একজনের নাম মশিউর। তিনি বলে উঠলেন, এই তোরা কারা? তুই করে বলার পর বললাম, আমরা স্টুডেন্ট, ক্যাম্পাসে যাবো। তিনি বলেন, এখানে কেন তোরা? আমি বললাম, আশ্চর্য কথা, আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র, শাটলে বসতেই পারি। কথা কাটাকাটির মধ্যে তিনি বললেন, তুই টাকা দে। আমি বললাম, আমি ৩ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি। আমি ট্রেনের জন্য কাউকে টাকা দেব না। দিলে ক্যাম্পাসকে দেব।’

চবি ছাত্র রাইয়্যান বলেন, ‘তখন আমি বন্ধুদের মোবাইলে কল দিচ্ছি, যেহেতু সমস্যা করতেছে। আরএনবির ওই সদস্য হঠাৎ করে আমার মোবাইল কেড়ে নিতে চেষ্টা করলেন, তবে আমি দিচ্ছিলাম না। তখন তিনি বললেন, এই কাকে কল দিচ্ছিস দেখি। একপর্যায়ে মোবাইল কেড়ে নিতে না পেরে তিনি দুটি লাঠি দিয়ে আমাকে খুব মেরেছেন। আমার পা ভেঙে গেছে, পরে পাঁচলাইশের পিপলস হাসপাতালে গিয়ে এক্স-রে করে দেখলাম। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছোট ভাইও আমাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছে।’

এদিকে ঘটনার পর শখানেক ছাত্রলীগকর্মী চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। তাদেরকে আরএনবির কর্মকর্তারা শান্ত করেন। পরে বিচার দাবি করে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয় বলে জানান চবি’র ছাত্রলীগকর্মী আমিরুল হক চৌধুরী।

তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আমার বন্ধু রাইয়্যান বার বার পরিচয় দিচ্ছিল সে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আরএনবির ওই সদস্য এরপরও তাকে মারছিল আর বলছিল, তুই আর জীবনেও বলবিনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।’

আমিরুল বলেন, ‘আরএনবির অফিসার আমান উল্লাহ আমান স্বীকার করেছেন, আগেও আরএনবি সদস্য মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে এ ধরনের কয়েকটি অভিযোগ ছিল। তিনি আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন এ ঘটনায় উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন। আমরা জেনেছি মশিউর মাদকাসক্ত। ঘটনার পর ‍তিনি স্টেশন ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।’

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চট্টগ্রাম স্টেশনের পরিদর্শক আমান উল্লাহ আমান একুশে পত্রিকাকে বলেন, শাটল ট্রেনে ওরা বসেছিল। সিপাহী মশিউরের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়েছে।

তিনি বলেন, এখন তো এটা সমাধান হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আসছিল। আমিও চবির ছাত্র ছিলাম, তারা আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোটভাই। আমরা একটা সমাধান দিয়ে দিয়েছি।

অভিযুক্ত সিপাহীর বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে- জানতে চাইলে আমান উল্লাহ আমান বলেন, ঘটনার বিষয়ে জিডি রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে কালকে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এরপর আমার ঊর্ধ্বতন স্যারেরা তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবেন।

আরএনবি’র চট্টগ্রাম স্টেশন প্রধান পরিদর্শক সত্যজিৎ দাশ একুশে পত্রিকাকে বলেন, পরিদর্শক আমান উল্লাহ’র অধীনে থাকা একজন সিপাহীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।