১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬, মঙ্গলবার

কাগজবিহীন বিশ্ববিদ্যালয় হবে চবি

প্রকাশিতঃ শনিবার, জুন ৮, ২০১৯, ২:৫৬ অপরাহ্ণ


ড. মোঃ হানিফ সিদ্দিকী : গল্পটার শুরু এভাবে- একদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রেজিস্ট্রারের কক্ষে বসে আছি। একটা ফাইল আসলো। সব শিক্ষার্থীদেরকে স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে। সর্বসাকুল্যে খরচ হবে প্রায় আশি লাখ টাকার মতো। তথ্যপ্রযুক্তির মানুষ হিসেবে আমাকে সামনে পেয়ে রেজিস্ট্রার সাহেব ফাইলটি দেখতে বললেন। ফাইলে চোখ বুলাতে বুলাতে বললাম- দশ দিনে পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচে স্মার্ট কার্ডের অনুরূপ কাজ করা যেতে পারে। সবিস্তারে কথা হলো। অ্যাপের মাধ্যমে বারকোড বা কিউআর কোড ব্যবহার করে কীভাবে শিক্ষার্থী শনাক্ত করা যায়। উপরন্তু বছরে স্মার্টকার্ডের জন্য যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় অত্যধিক হলেও নতুন প্রস্তাবিত কাজে রক্ষণাবেক্ষণের খরচ নেই বললেই চলে। রেজিস্ট্রার সাহেব বিষয়টি বুঝে লুফে নিলেন। আমাদের অত্যন্ত বিজ্ঞ উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী মহোদয় সব শুনে কালক্ষেপণ না করে কাজের অনুমতি দিলেন। আমার সামনে দশ দিনের চ্যালেঞ্জ। শুরু হলো কম্পিউটার প্রকৌশলীদের দিন-রাত কাজ বুঝিয়ে দেবার পালা। অ্যাপটি তৈরি করে ঠিক দশম দিনে রেজিস্ট্রারের সামনে উপস্থাপন করা হলো এবং এটি পরিকল্পনামতোই কাজ করলো।

গল্পটি এখানেই শেষ হতে পারতো। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষা এসে পড়লো। আগেরবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তি সিস্টেম ভাড়া নিয়ে মাত্র চারটি ইউনিটের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। ফলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেক লাঘব হয়েছে। কিন্তু খরচ পড়ে গিয়েছে এক কোটি টাকার উপরে। এবার নিজেদের জন্য কোন সিস্টেম তৈরি করা যায় কি-না তা পর্যালোচনার জন্য মাননীয় উপাচার্য একটি মিটিং ডাকলেন। উপস্থিত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিথযশা ব্যক্তিবর্গ। আমাকেও ডাকা হলো। কিন্তু কাজে আটকে পড়ায় দেরি করে ফেললাম। ফোনে শুনলাম মিটিং প্রায় শেষ। তবে সিদ্ধান্ত হয়নি। আমন্ত্রিত অতিথিরা তখনো আছেন। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সিস্টেমের জন্য যে স্থানীয় সার্ভার তৈরি করা হয়েছে তাতে খরচ পড়েছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার উপরে। সফটওয়্যারসহ অন্যান্য খরচতো আছেই। এ এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। হাতে সময় মাত্র তিনমাসের কম। এই অল্প সময়ের মধ্যে পাঁচ কোটি টাকার সেটআপ তৈরি করা অসম্ভব। উপস্থিত সভাসদ দ্বিধান্বিত। আমি স্থানীয় সার্ভার সেটআপের বদলে ক্লাউড সার্ভারের কথা প্রস্তাব করলাম। এটা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কিছুক্ষণ বিতর্ক হলো। কয়েকজন ডিন বলে ফেললেন- আমরা বুঝেছি, আমরা পারবো। উপাচার্য মহোদয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আমাকে কিছু সময় দিলেন। আমি সজ্ঞানে জানতাম- বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সিস্টেম অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং এখানে অকৃতকার্য হবার ফলাফল কতটা ভয়াবহ হতে পারে। কিন্তু বাবার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ আমাকে প্রেরণা যুগিয়েছে। ফলাফলের ভয়াবহতা জেনেও সিদ্ধান্ত নিলাম- বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কাজটার দায়িত্ব নেবো।

প্রথমেই যথাসম্ভব অল্প সময়ে আগেরবারের ভর্তি পদ্ধতি, সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে বিশ্লেষণ করলাম। পাঁচ কোটি টাকার স্থানীয় সেটআপের বদলে ১ লাখ টাকার নিরাপদ ক্লাউড সার্ভার কেনার সিদ্ধান্ত নিলাম। ব্যাংকিং সিস্টেমের কারণে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যাংকের লাইনে দাঁড়াতে হতো। সিদ্ধান্ত নিলাম- মোবাইল ব্যাংকিং এ যাবো যেন ভর্তিচ্ছুদের কাছে সময় প্রতিবন্ধক না হয়। পরীক্ষার্থীদেরকে তাৎক্ষণিক তথ্য দেওয়ার জন্য মোবাইল ক্ষুদে বার্তা ব্যবহার করবো। আরো সিদ্ধান্ত নিলাম- সবচেয়ে কম খরচে এবং যতদূর সম্ভব আমার নিকট সান্নিধ্যে থেকে যারা কাজ করবে তাদেরকে দিয়ে কাজটি করিয়ে নেবো। সর্বোপরি, আমাকে সহযোগিতা করার জন্য দুজন সহকর্মী চাইলাম। চাওয়া মাত্রই উপাচার্য মহোদয় যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিম এবং ফাইন্যান্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহিউদ্দীন চৌধুরীকে আইসিটি সেলের সহকারী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিলেন।

উপাচার্য মহোদয়ের ঐকান্তিক ইচ্ছায় শুরু হলো পথ চলা। প্রথমে অটোমেশন সেল নামে এবং পরবর্তীতে আইসিটি সেলের নামে আমাদের ডিজিটাল রূপান্তরের কাজ এগিয়ে চললো। আমরা দিন-রাত সমান করে ফেললাম। কাজ আর কাজ। আইসিটি সেলকে পরিণত করলাম একটি কার্যকরী টিম ওয়ার্কে। অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা অভাবনীয় অফারে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জন্য সঙ্গে পেলাম বিকাশ ও রকেটকে, ক্ষুদে বার্তার জন্য রবি ও গ্রামীণফোনকে, পরীক্ষার্থীদের বোর্ড ডাটার জন্য টেলিটককে এবং সর্বোপরি আমাদের পূর্ণাঙ্গ সফটওয়্যার তৈরি ও সার্বক্ষণিক সেবা দেবার জন্য সঙ্গে পেলাম আগামীল্যাবস লিমিটেডকে।

সফটওয়্যারে সন্নিবেশিত হলো অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পরীক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রেশনে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষাসংক্রান্ত তথ্য দিলেই বোর্ড থেকে স্বয়ংক্রিয় তথ্য যাচাই ও তথ্য সন্নিবেশ ঘটে। এছাড়াও ইউনিট পরীক্ষার জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যেকোনো সময় যেকোন স্থান থেকে অর্থ জমাদান, এডমিটকার্ড ও সিটপ্ল্যান নেওয়া, ফলাফল প্রদান, বিভাগে ভর্তির জন্য ডাকা ও স্বয়ংক্রিয় মাইগ্রেশন, শিক্ষার্থী তথ্য জমাদানসহ নির্দিষ্ট বিভাগে ভর্তি- পুরো বিষয়টিই সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় বলে আমাদের এই সিস্টেমটি অন্য যেকোনো সিস্টেমের চেয়ে এগিয়ে এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ। সফটওয়্যারের সহজ ব্যবস্থাপনার কারণে এইচএসসিতে রেকর্ড পরিমাণ খারাপ ফলাফল এবং প্রত্যেক ইউনিটে এবারে সর্বনিম্ন গ্রেড বাড়ানো সত্ত্বেও গতবছরের তুলনায় প্রায় দশ হাজারের বেশি পরিক্ষার্থী এবার রেজিস্ট্রেশন করে। মজার বিষয় হলো- এই অতিরিক্ত পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে অতিরিক্ত অর্থ আয় হয়, সফটওয়্যার তৈরি বাবদ মোট ব্যয় তার চেয়েও কম। দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা যায়, এবার আমাদের সম্পূর্ণ ভর্তি সম্পন্ন হয়েছে কোন প্রকার ভুলভ্রান্তি ব্যতিরেকেই। উপরন্তু এটি আমাদের নিজস্ব সফটওয়্যার যা সামান্য ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে প্রতিবছর ব্যবহার করা সম্ভব।

ভর্তিপরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ব্যবহৃত এন্টিপ্রক্সি (anti-proxz) অ্যাপ ছিল ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রক্সি ঠেকাতে এটি কার্যকর বন্ধু হতে পারে। যেকোনো পরীক্ষার্থীর এডমিট কার্ডের উপরের কিউআর কোডের উপর মোবাইল ক্যামেরা ধরলে সার্ভার থেকে তার আসল পরিচয়, সিটপ্ল্যান, পরীক্ষার তারিখ ও সময়সহ সব বিষয় মুহূর্তে চলে আসে। এটি যেমন প্রক্সি ঠেকাতে কার্যকর, তেমনি তথ্যের মাধ্যমে সঠিক সময়ে শিক্ষার্থীকেও সহযোগিতা করে। ভর্তি পরীক্ষায় আরেকটি মোবাইল অ্যাপ পরীক্ষার্থীদের বন্ধুর মত সহযোগিতা করেছে। এটি হলো ‘ভর্তি নোটিস’। এই অ্যাপের মাধ্যমে সব নোটিস সঠিক সময়ে ঠিকঠাকভাবে পরীক্ষার্থীকে জানিয়ে দিয়ে বন্ধুর মত সিদ্ধান্ত নিতে কাজে লেগেছে।

ভর্তি পরীক্ষার পরপরই মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের নির্দেশক্রমে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবপোর্টাল তৈরিতে হাত দিয়েছি। বহুদিনের অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটকে ঢেলে সাজিয়ে আন্তর্জাতিকমানের ওয়েব পোর্টাল তৈরিতে সচেষ্ট হয়েছি। ইতোমধ্যে মোট চারটি পর্যায়ের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

কী থাকছে প্রথম পর্যায়ের এই ওয়েবপোর্টালে? সম্পূর্ণ ডায়নামিক এবং আন্তর্জাতিকমানের এই ওয়েবপোর্টালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহারকারী নামের সঙ্গে প্রোফাইল থাকছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেন্দ্রীয় দস্তাবেজের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত সবাইকে দস্তাবেজের আওতাধীন আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে করে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব মানুষই যেহেতু এই দস্তাবেজে উপস্থিত থাকবে, কাজেই অনলাইনের মাধ্যমে যেকোনো নথি, সিদ্ধান্ত, নোটিস বা নোটিফিকেশন জানানো সহজতর হয়। পর্যায়ক্রমে, এই ওয়েবপোর্টালে সব বিভাগ-ইনস্টিটিউটের আলাদা আলাদা পেজের মাধ্যমে তাদের কর্মকা- উপস্থাপন করা হবে। সব অফিসের সিটিজেন চার্টার উন্মুক্ত করার মাধ্যমে স্বচ্ছতা আনয়নে সহযোগিতা করবে। বিভিন্ন প্রকাশনাগুলোকে সন্নিবেশিত করার কারণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং আরও উপরে উঠে আসবে বলেও আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি এখন একই সিস্টেমের অন্তর্গত, ফলে অচিরেই আমরা রেজাল্ট প্রসেসিং সফটওয়্যারে হাত দিতে পারব। এখন যে সনাতন পদ্ধতিতে হাতে লিখে শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রদান করা হয় তা সময়সাপেক্ষ, ক্রটিপূর্ণ (যেকোনো সময় চোখের ভুলের কারণে ভুল হবার সুযোগ আছে) এবং সেশনজটের অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি। একটি প্রকৃত রেজাল্ট প্রসেসিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে দ্রুতগতিতে নির্ভুলভাবে শিক্ষার্থীদের ফলাফল তৈরি করা যায়। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষকদের উপর থেকে অতিরিক্ত চাপ কমে আসবে এবং ফলাফলগুলো দীর্ঘকাল সংরক্ষিত থাকবে। এই বছরের মধ্যেই রেজাল্ট প্রসেসিং সফটওয়্যারটি সম্পন্ন করার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় অনেক বড় এবং এর কার্যপরিধিও অনেক ব্যপ্ত। প্রতিদিনের এই মহাযজ্ঞকে কালক্ষেপণ না করে সুন্দরভাবে সমাধান করা একান্ত প্রয়োজন। আর এর জন্য দরকার ই-নথিসহ সম্পূর্ণ এডুকেশন রিসোর্স প্ল্যানিং (এআরপি)। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে কাগজবিহীন বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে এটিই হবে কার্যকরী পদক্ষেপ। এডুকেশন রিসোর্স প্ল্যানিং (এআরপি) এর মাধ্যমে রেজিস্ট্রার ভবনের সব জটিল কাজ- নিয়োগ, উচ্চশিক্ষা, বিল, ছুটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারী সংশ্লিষ্ট সব কার্যাদি সুচারুরূপে সম্পন্ন করা যাবে। শিক্ষার্থীদের দেওয়া যাবে ওয়ান স্টপ সার্ভিস।

এছাড়াও কিছু মোবাইল অ্যাপস আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে আরও সাবলীল করে তুলবে। যেমন- পরিবহনের জন্য একটি ট্র্যাকিং অ্যাপ। শহর থেকে যারা ক্যাম্পাসে যাতায়াত করেন, তারা প্রত্যেকে প্রতিদিন অনেক কর্মঘণ্টা পরিবহনের জন্য অপেক্ষা করে ব্যয় করেন। অচিরেই এই সমস্যার সমাধান হতে চলেছে। আমাদের ওয়েবপোর্টালের সঙ্গে অবস্থিত নোটিস, সংবাদ এবং ইভেন্ট, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সবার কাছে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাক্সেসিবল করার জন্য ইতোমধ্যে আমরা চিন্তাভাবনা করছি। এটি ছাড়াও আমাদের সকল প্রকার রেজিস্ট্রেশন (এলামনাই, রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট ইত্যাদি), বেতন-ভাতাদি, দরখাস্ত-ফি ইত্যাদি পেমেন্টকে সহজ করার কথা আমরা সক্রিয়ভাবে চিন্তা করছি।

মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের ঐকান্তিক ইচ্ছা ও তত্ত্বাবধানে আইসিটিসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আইসিটিসেলের তত্ত্বাবধানে রয়েছে ভার্চুয়াল ক্লাসরুম যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে বসেও দেশ-বিদেশে বিভিন্নস্থানে সেমিনার করা অথবা দেশ-বিদেশের কোন সেমিনারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শকের সামনে উপস্থাপন করা যাচ্ছে। আইসিটিসেল ক্যাম্পাসের সব স্থানে ২৪/৭ সময় ধরে ইন্টারনেট সংযোগ চালু রাখার ব্যাপারে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ। এজন্য অচিরেই টাওয়ারের মাধ্যমে ওয়াইফাই সংযোগের বিষয়টি আমরা সার্ভে করবো। উপাচার্য মহোদয়ের নির্দেশক্রমে আইসিটিসেল সব শিক্ষার্থীর জন্য পুনরায় প্রশিক্ষণ চালু করে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্যকে আরো এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর। হার্ডওয়্যার সার্ভিসিংয়ের মাধ্যমে শহর থেকে অনেক দূরে অবস্থিত এই ক্যাম্পাসের অনেক কম্পিউটার বা অন্যান্য যন্ত্রাংশ মেরামতের সুযোগ সৃষ্টি করে অচিরেই আইসিটি সেল অনেক সাশ্রয়ী ভূমিকা পালন করবে। সবার আন্তরিক সহযোগিতায় আইসিটি সেল তার লক্ষ্যে দৃঢ় পায়ে নিরন্তর এগিয়ে যাবে।

লেখক: পরিচালক, আইসিটি সেল
অধ্যাপক, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, চবি।