চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তালসরা দরবার শরিফের টাকা লুটের ঘটনায় র্যাব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে করা মামলাটি বিচার শুরুর জন্য প্রস্তুত হয়েছে। রোববার চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাচিস্ট্রেট আ স ম শহীদুল্লাহ কায়সার ওই মামলার অভিযোগপত্রসহ নথি বিচারিক আদালতে স্থানান্তরের আদেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলেন- লেফটেন্যান্ট কর্নেল (চাকরিচ্যুত) জুলফিকার আলী মজুমদার, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট (চাকরিচ্যুত) শেখ মাহমুদুল হাসান, র্যাব-৭ এর সাবেক ডিএডি আবুল বাশার, এসআই তরুণ কুমার বসু, র্যাবের তিন সোর্স দিদারুল আলম ওরফে দিদার, আনোয়ার মিয়া ও মানব বড়–য়া।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কোর্ট পরিদর্শক এএইচএম মশিউর রহমান বলেন, আগামী ২৯ নভেম্বর মামলার দিন ধার্য্য করেছেন আদালত। ওই দিনই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হতে পারে। মামলার সাত আসামির সবাই জামিনে আছেন। তারা রোববার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ৪ নভেম্বর তালসরা দরবার শরিফ মাজারে র্যাব সদস্যরা গিয়ে তল্লাশির নামে ২ কোটি ৭ হাজার টাকা লুট করে বলে অভিযোগ উঠে। ঘটনার দিন দরবার শরিফ থেকে মিয়ানমারের পাঁচ নাগরিককে র্যাব সদস্যরা আটক করে। তাদের থানায় হস্তান্তর করা হলেও টাকার বিষয়ে কোনো কিছুই উল্লেখ করেনি র্যাব। পরে এ ঘটনা জানাজানি হলে র্যাব সদর দপ্তরের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে র্যাব সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর এ ঘটনায় ২০১২ সালের ১৩ মার্চ আনোয়ারা থানায় র্যাবের ১২ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
এরপর ওই বছরের ২৬ জুলাই জুলফিকারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন আনোয়ারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুস সামাদ। ২০১২ সালেই মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন চাকরিচ্যুত জুলফিকার ও মাহমুদুল হাসান। ২০১৫ সালের ১১ মার্চ জুলফিকারের করা রুল আবেদনটি হাইকোর্টে বাতিল হয়ে যায়। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৮ অগাস্ট মাহমুদুল হাসানের পক্ষে আবেদনটিও বাতিল করে দেয় হাইকোর্ট।
উচ্চ আদালতের এসব আদেশ সম্প্রতি চট্টগ্রামে এসে পৌঁছে।