মামুনুল হক চৌধুরী : আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের ২৮৭৫ স্যাম্পসন এভিনিউতে বাণিজ্যিক ভবনসহ ভূমি কিনেছেন সাদ মুসা ফেব্রিক্স লিমিটেডের মালিক মোহাম্মদ মহসিন। এতে তিনি খরচ করেছেন ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৮৬৯ ডলার। যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৫ কোটি ২২ লাখ ৯২ হাজার ৩৩৫ টাকা। এ পরিমাণ টাকা তিনি অবৈধভাবে পাচার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এই তথ্য। আমেরিকায় অর্থপাচার করে বিনিয়োগ এবং বিনিয়োগের সমপরিমাণ আয়ের তথ্য গোপন করার অভিযোগে গত ৪ অক্টোবর চট্টগ্রামের কর অঞ্চল-এর কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বাদি হয়ে মহসিনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন।
মামলাটি গ্রহণ করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শাহে নুর। বাদী মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ পক্ষে মামলাটি আদালতে দায়ের করেন এ্যাডভোকেট দীল আফরোজ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মোহাম্মদ মহসীন নগরীর সাদ মুসা ফেব্রিক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি ২০১২ সালে ১৯ নভেম্বর একটি ব্রোকার ফার্মের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের ২৮৭৫ স্যাম্পসন এভিনিউস্থ বাণিজ্যিক ভবনসহ ভূমি ক্রয় করেন। এতে তিনি আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৮৬৯ ডলার পরিশোধ করেছেন।
ইতিমধ্যে অর্থপাচার করে ওই সম্পত্তি ক্রয়ের অভিযোগে আমেরিকা সরকারের কাছে তার ওই সম্পদ ও সম্পদ সংক্রান্তে লেনদেন স্থগিত রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়াদি তথ্য আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন না করার অভিযোগ আনা হয়েছে আয়কর কর্মকর্তার দায়েরকৃত মামলায়।
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর থেকে আত্মগোপন থাকায় অনেক চেষ্টা করেও অভিযুক্ত মহসীনের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে হাসান নামের সাদ মুসা গ্রুপের এক কর্মকর্তার সাথে একুশেপত্রিকাডটকমের কথা হয়। মহসীনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মহসিন স্যার দেশে আছেন। দুইদিন আগে সর্বশেষ ওনার সাথে কথা হয়েছে আমার।’
আমেরিকায় মহসিনের অর্থ পাচার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এ নিয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন সাদ মুসা গ্রুপের এই কর্মকর্তা।