বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন হন জাহাঙ্গীর

| প্রকাশিতঃ ২১ অক্টোবর ২০১৬ | ১০:১০ অপরাহ্ন

14691043_972722612839099_5942586215740619132_nচট্টগ্রাম: নগরীর খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের এক সপ্তাহ পর ঘটনায় জড়িত অভিযোগে চার যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় জাহাঙ্গীরকে খুন করা হয়েছে বলে গ্রেফতারকৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ছিনতাইকারী মোঃ নূর হোসেন (৩৫), মোঃ নাছির (২৪), মোঃ মহিন উদ্দিন (২২) ও সিএনজি চালক মোঃ সোহেল (৩০)।

গত ১৩ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে খুলশী থানার আমবাগানের ভাঙ্গারপুল এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ফেনীর ছাগলনাইয়া থানার পশ্চিম পাঠানগর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর চট্টগ্রাম ইপিজেডের সি-টেক্স গার্মেন্টসের স্টোর সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া নগর পুলিশের পাঁচলাইশ জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘লাশ উদ্ধারের ঘটনা তদন্তে খুলশী, বায়েজিদ বোস্তামী ও চান্দগাঁও থানার বেশ কয়েকজন অফিসারের সমন্বয়ে টিম গঠন করা হয়। একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার খুলশীর লোহাগাড়া হাউজিং সোসাইটির মহরম আলীর বাসা থেকে প্রধান আসামী নূর হোসেনকে এবং বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে মোঃ নাছিরকে গ্রেফতার করা হয়।’

‘নূর হোসেনের স্বীকারোক্তি মতে তার বাসা হতে নিহত জাহাঙ্গীরের ব্যবহৃত মোবাইল সেট এবং তার ছেলের জন্য কেনা গুড়ো দুধের প্যাকেট ও খেলনা পুতুল উদ্ধার করা হয়। এরপর নূর হোসেন ও নাছিরের স্বীকারোক্তি মতে শুক্রবার ওয়ার্লেস গেইট থেকে হত্যাকান্ডে অংশ নেওয়া মোঃ মহিন উদ্দিন এবং সিএনজি চালক মোঃ সোহেলকে খুলশী ঝাউতলা থেকে গ্রেফতার করা হয়।’ –বলেন সিনিয়র সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি বলেন, ‘সোহেলের স্বীকারোক্তি মতে ঝাউতলার গ্যারেজ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিক্সা (চট্টমেট্রো- থ-১২-৩০৪৯) উদ্ধার করা হয়।’

হত্যার কারণ সম্পর্কে পুলিশ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার অপরাধী এবং সক্রিয় ছিনতাই চক্রের সদস্য। তারা পরস্পর যোগসাজসে সিএনজি অটোরিক্সা ব্যবহার করে যাত্রীর নিকট হতে নগদ টাকা মোবাইল ও অন্যান্য মালামাল হাতিয়ে নেয়।

গত ১৩ অক্টোবর নিমতলা বিশ্বরোড হতে ভিকটিম জাহাঙ্গীর আলমকে অলংকার মোড়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তারা সিএনজিতে উঠায়। পথিমধ্যে ভিকটিমের নিকট হতে নগদ টাকা এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ভিকটিম চিৎকার করার চেষ্টা করলে গ্রেফতারকৃতরা তাকে গলা টিপে হত্যা করে। পরে আমবাগান ভাঙ্গার পুল এলাকায় লাশ ফেলে রেখে সিএনজি যোগে দ্রুত পালিয়ে যায়।

গ্রেফতার হওয়া নূর হোসেন ও নাছির শুক্রবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলেও জানান পাঁচলাইশ জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম।