সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

‘গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ভাঙার পরিকল্পনা ছিলো তাদের’

| প্রকাশিতঃ ১৯ অগাস্ট ২০১৯ | ৫:৩৯ অপরাহ্ন

ঢাকা : ইসলামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক কাঠামোক ভাঙার পরিকল্পনা ছিল ‘আল্লাহর দল’ নামের নতুন এই জঙ্গি সংগঠনটির। সম্প্রতি বিজিবির চাকরিচ্যুত সদস্যদের দলে অন্তর্ভুক্ত করতে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা চালায় তারা। এছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক বিন্যাসের ন্যায় সাংগঠনিক কাঠামো গড়েছে দলটি।

সোমবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল এমরানুল হাসান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের জঙ্গি সংগঠন ‘আল্লাহর দল’ বা ‘আল্লাহর সরকার’ এর সদস্য বলে স্বীকার করেছে। তাদের কাছ থেকে নানা ধরনের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

লে. কর্নেল এমরানুল হাসান বলেন, স্বাভাবিক জঙ্গি সংগঠনের তুলনায় ‘আল্লাহর দল’ জঙ্গি সংগঠনটির অবকাঠামো বিন্যাস ভিন্ন। গ্রাম পর্যায়ে নায়ক থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পদ তারকা হিসেবে তারা চিহ্নিত করে। এদের অধিনায়ক, উপ-অধিনায়ক, অতিরিক্ত অধিনায়ক পদ রয়েছে। এরা সদস্যদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণের ঝামেলা এড়াতে বিভিন্ন বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ও চাকরিচ্যুত সদস্যদের যুক্ত করার চেষ্টা করে আসছিল।

সংগঠনের আর্থিক উৎস সম্পর্কে তিনি বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদা বা এয়ানত (সদস্যদের মাসিক চাঁদাকে এয়ানত বলা হয়) নেয়। জাকাতের অর্থ জঙ্গি কার্যক্রমে ব্যবহার করে। কয়েকটি বেনামে তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। ব্যবসালব্ধ আয়ে তাদের আর্থিক মূলধনের একটি বিরাট অংশ নামে বেনামে বা নারীদের নামে ব্যাংকে যাওয়ার তথ্য মিলেছে।

এমরানুল হাসান বলেন, ২০০৪ সালে এ জঙ্গি সংগঠনের আটজন এবং সাম্প্রতিক সময়ে খুলনা থেকে তিনজন, ঢাকা থেকে চারজন, রংপুর থেকে তিনজনসহ মোট ১৮ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। সর্বশেষ আটক চারজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের কার্যক্রমের বিষয়ে আরো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, জঙ্গি মতিন মেহেদী মমিনুল ইসলাম ওরফে মতিন মাহবুবের নেতৃত্বে ১৯৯৫ সালে ‘আল্লাহর দল’ নামে এ ‘জঙ্গি সংগঠনটি’ গড়ে ওঠে। পরে ২০০৪ সালে শেষ দিকে সংগঠনটিকে জেএমবির সঙ্গে যুক্ত করেন তিনি। সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলায়ও সংগঠনটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করে।

পরে জেএমবি নেতৃত্বশূন্য হলে জঙ্গি মতিন মেহেদী জেএমবি ত্যাগ করে তার মূল সংগঠন পুনর্গঠনের চেষ্টা করেন। মতিন মেহেদী ২০০৭ সালে গ্রেফতার হলেও তাকেই আমির হিসেবে মান্য করে এ জঙ্গি সংগঠনটি নতুন করে পরিচালিত হচ্ছিল।

এমরানুল হাসান আরো বলেন, দলটির পরিকল্পনা ছিলো তাদের নেতা মেহেদী মতিনকে যখন কারাগার থেকে আদালতে নেওয়া হবে এবং ফের কারাগারে ফিরিয়ে আনা হবে, তখন প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে মেহেদী মতিনকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য কয়েকটি পরিকল্পনা ও রেকি সম্পর্কে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা তথ্য দিয়েছে।

গ্রেফতার ইব্রাহিম আহমেদ হিরো জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে জানিয়েছে, সে জঙ্গি সংগঠন ‘আল্লাহর দল’ বা ‘আল্লাহর সরকার’ এর অধিনায়ক হিসেবে কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পালন করছে। তারকার (আমির) অনুপস্থিতিতে সে দলের নেতৃত্বে রয়েছে। তার পদবি ভারপ্রাপ্ত তারকা বা ভারপ্রাপ্ত আমির।

রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার দিবাগত রাতে সংগঠনটির নেতৃত্বে থাকা ইব্রাহিম আহমেদ হিরোসহ (৪৬) চার সদস্যকে আটক করে র‌্যাব। আটক বাকি তিনজন হলেন- আব্দুল আজিজ (৫০), শফিকুল ইসলাম সুরুজ (৩৮) ও রশিদুল ইসলাম (২৮)।

একুশে/এসসি