
কলকাতা: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় জাগুয়ার গাড়িচাপায় দুই বাংলাদেশির নিহতের ঘটনা নতুন দিকে মোড় নিয়েছে। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়া কাজী মুহম্মদ মইনুল আলম (৩৬) ও ফারহানা ইসলাম (৩০) নামের দুই বাংলাদেশি গত শুক্রবার রাতে জাগুয়ারচাপায় নিহত হন। এ ঘটনায় রাঘিব পারভেজ ও মহম্মদ হামজা নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ।
জাগুয়ার গাড়ির চালক সন্দেহে গত শনিবার আরসালানকে গ্রেপ্তারের পরদিন তাকে কলকাতার নগর দায়রা আদালতে তোলা হলে আদালত তাকে ১১ দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার আদেশ দেন। পরে আসলামকে পুলিশি হেফজতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি বলেন, ওই দিন তিনি গাড়ি চালাননি। বাড়িতে ছিলেন। তার স্বীকারোক্তিতে মামলার তদন্ত নতুন দিকে মোড় নেয়। রহস্য উদঘাটনের জন্য পূনরায় তদন্তে নামে পুলিশ।
পরে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে ওই দিন জাগুয়ারের চালক আরসালানের বড় ভাই রাঘিব ছিলেন। পরে মামলাটি কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়। ডিবি পুলিশ আরসালান রেস্তোরাঁর সর্বময় কর্তা ও পারভেজ-রাঘিরের বাবা আখতার পারভেজকে তলব করে। জেরার মুখে আখতার পারভেজ জানান, রাঘিবই সেদিন গাড়ি চালিয়েছিলেন।
কে এই রাঘিব : ভারতের একটি নামকরা রেস্তোরাঁ হলো আরসালান। বিরিয়ানির জন্য এই রেস্তোরাঁর সুখ্যাতি রয়েছে দেশ-বিদেশে। কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে এই রেস্তোরাঁর শাখা রয়েছে। দুবাইতেও আছে শাখা। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তারা শাখা খুলতে যাচ্ছে। চেইন রেস্তোরাঁটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেন রাঘিব।
কী কারণে আরসালানকে পুলিশে দেওযা হল : চেইন রেস্তোরাঁটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাঘিব কারাগারে গেলে ব্যবসায় বেশি ক্ষতি হবে এমনটা চিন্তা করে পরিবারের সদস্যেরা আরসালানকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই মতো শনিবার দুপুরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় আরসালানকে। তবে পুলিশের জেরায় আসল তথ্য জানিয়ে দেন আরসালান।
কী ভাবে গ্রেফতার হলেন রাঘিব : ঘটনার পরদিন রাঘিব তাঁর মামা মহম্মদ হামজার উদ্যোগে দুবাই চলে যান। আরসালানের স্বীকারোক্তি পেয়ে পুলিশ রাঘিবকে দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয়। তিনি দুর্ঘটনায় সামান্য আহত হয়েছিলেন। দুবাই থেকে ফিরিয়ে এনে তাঁকে ভর্তি করা হয় কলকাতার বেনিয়াপুকুর থানা এলাকার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে। সেখান থেকেই গতকাল বিকেলে পুলিশ গ্রেপ্তার করে রাঘিবকে। সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় রাঘিবের মামা হামজাকেও।
পুলিশের তথ্যমতে, জাগুয়ার গাড়িটি কলকাতার একটি দামি চেইন রেস্তোরাঁ আরসালানের নামে রয়েছে। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন রেস্তোরাঁ মালিকের ছেলে আরসালান। তাঁর বয়স ২২ বছর। তিনি স্কটল্যান্ডের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ছুটিতে তিনি বাড়িতে এসেছিলেন।
প্রসঙ্গত, জাগুয়ার গাড়িটি কলকাতার বিড়লা প্লানেটরিয়ামের দিক থেকে শেক্সপিয়ার সরণি ধরে কলামন্দিরের দিকে যাচ্ছিল। লাউডন স্ট্রিটের ক্রসিংয়ের মুখে জাগুয়ারটি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা মার্সিডিজ গাড়িকে সজোরে ধাক্কা মারে। চলে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুই বাংলাদেশিকে চাপা দেয় জাগুয়ারটি। গুরুতর আহত অবস্থায় দুই বাংলাদেশিকে নেওয়া হয় কাছের পিজি হাসপাতালে। পরে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় মার্সিডিজের চালক ও আরোহী আহত হন। জাগুয়ারের চালক গাড়ি ফেলে পালিয়ে যান।
একুশে/এসসি