বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

‘নাসিরনগরের হামলার পেছনে জঘন্য সাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তি রয়েছে’

| প্রকাশিতঃ ১২ নভেম্বর ২০১৬ | ২:৪৪ অপরাহ্ন

ctgচট্টগ্রাম: সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সমাজ বিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

‘জেগে ওঠো বাংলাদেশ’ এর ব্যানারে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন- অধ্যাপক ড. অনুপম সেন, শহীদজায়া বেগম মুশতারী শফী, অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম, কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন।

সংবাদ সম্মেলনে এই বিশিষ্ট ব্যক্তিরা মত দিয়েছেন, ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনার পেছনে জঘন্য সাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তি রয়েছে। হামলার পেছনে হেফাজত-আহলে সুন্নাত, বিএনপি-জামায়াত জোটের সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর স্বার্থ কাজ করেছে। তারা হামলার নিন্দা জানিয়ে ‘বাংলাদেশ ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু কমিশন’ গঠনের দাবিও জানান।

এছাড়া সাম্প্রদায়িক হামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, পুলিশ ও প্রশাসনের ব্যক্তিদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ করা, সাম্প্রদায়িকতার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্সের নীতি গ্রহণ, স্বাধীনতার পর থেকে হওয়া সকল সাম্প্রদায়িক ঘটনাবলী এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ক্ষতি ও দেশত্যাগের বিবরণীসহ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক অনুপম সেন বলেন, দেশে বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনার বিচারে দীঘসূত্রিতা রয়েছে। অথচ এ ধরণের অপরাধ মানবতাবিরোধী। সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

ড. মইনুল ইসলাম বলেন, নাসিরনগরের হামলার পেছনে জঘন্য সাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তি রয়েছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগোষ্ঠীর ওপর হামলার ঘটনায় সাইলেন্ট মাইগ্রেশন হচ্ছে। এতে করে বিএনপি-জামাত গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন হচ্ছে। কারণ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন চলে গেলে প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সমর্থন কমে যাবে।

আবুল মোমেন বলেন, নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। কিন্তু মানবতার বিরুদ্ধে এসব অপরাধ সরকার কোনোভাবেই বন্ধ করতে পারছে না। ওই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক কর্তাব্যক্তির দায়িত্বে অবহেলা এবং ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নেতার উসকানি ও সংশ্লিষ্টতা ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আবৃত্তিকার রাশেদ হাসান। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উদীচীর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. চন্দন দাশ, অধ্যাপক হোসাইন কবীর, সুনীল ধর, শরীফ চৌহান প্রমুখ।