সোমবার, ২৫ মে ২০২০, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

উপসর্গ ছাড়াও করোনা হতে পারে, নমুনা সংগ্রহ হবে সৌদিফেরৎ মেয়েটির

প্রকাশিতঃ শনিবার, এপ্রিল ৪, ২০২০, ৮:০৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : সৌদি-ফেরৎ মেয়ের সংস্পর্শে থেকে চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো কোনো ব্যক্তি করোনা-ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রচার হলে সাধারণ মহলে প্রশ্ন উঠেছে, মেয়ের থেকে আক্রান্ত হয়ে থাকলে মেয়ের কিছু হলো না কেন?

এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে শনিবার (৪ এপ্রিল) দিনভর একুশে পত্রিকা অনুসন্ধান করেছে, কথা বলেছে সংশ্লিষ্টদের সাথে।

সাম্প্রতিক কেস স্টাডি বলছে, শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে। অথচ কোনো উপসর্গ নেই। কাশি, সর্দি, গলাব্যথা, জ্বর কিছুই নেই। সম্প্রতি এমন করোনা-আক্রান্ত রোগীদের কথা স্বীকার করেছে খোদ চীনা প্রশাসন, চীনের স্বাস্থ্য বিভাগ।

গত ১ এপ্রিল পর্যন্ত এধরনের উপসর্গহীন করোনায় চীনে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫শ ৪১ জন। ফলে নতুন করে উদ্বেগ বেড়েছে চীনা প্রশাসনের। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, আক্রান্ত এসব মানুষের শরীরে করোনার কোনো উপসর্গই নেই।

ধারণা করা হচ্ছে, চট্টগ্রামে করোনা-আক্রান্ত ব্যক্তির সৌদি-ফেরৎ মেয়েটি এধরনের উপসর্গহীন করোনায় আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন, যার সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হয়েছেন বাবা। ৬৭ বছর বয়সী বিধায় বাবা করোনা-ধাক্কা সামলাতে পারেননি। ফলে সাথে সাথে দৃশ্যমাণ হয়েছে উপসর্গগুলো।

করোনা-আক্রান্ত হয়ে শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত সারাবিশ্বে ৬০ হাজারেও বেশি মানুষ মারা গেছে, যাদের কিছুর বয়স ৫০ এর উপরে এবং বাকি প্রায় সবার বয়স ৬০ এর উপরে। অর্থাৎ বয়স্ক মানুষ, যাদের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা নেই, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর এমন লোকই মারা গেছেন বেশি।

৫০ এর কম বয়সী যারা আক্রান্ত হয়েছেন রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অপেক্ষাকৃত বেশি বলে তাদের বেশিরভাগ সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। এছাড়া ইয়াং, এনার্জেটিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো কোনো ব্যক্তি উপসর্গ ছাড়া আক্রান্ত হওয়ার পর নীরবে বহন করে পরবর্তীতে নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ শক্তি দিয়ে আপনাআপনি সুস্থ হয়েছেন এমন কেস স্টাডিও মিলছে সাম্প্রতিক করোনা গবেষণায়।

চট্টগ্রামের করোনা ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত থাকা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া এ প্রসঙ্গে একুশে পত্রিকাকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে উপসর্গ ছাড়াই করোনা-আক্রান্তের ঘটনা ঘটছে চীনসহ বিভিন্ন দেশে। কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ নেই, অথচ পরীক্ষা করলেই শরীরে করোনার অস্তিত্ব মিলছে। আর এরা সবাই কম বয়সী এবং যথেষ্ট রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। বাংলাদেশেও এমন কেস স্টাডি থাকা অমূলক নয় বলে মনে করেন ডা. বিদ্যুত বড়ুয়া।

এই আশঙ্কা থেকে চট্টগ্রামে করোনা-আক্রান্ত ব্যক্তির সৌদি-ফেরৎ মেয়ের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন অফিস। ইতোমধ্যে শনিবার সকালে ওই পরিবারের অন্য চার সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করে ফৌজদারহাট বক্ষব্যাধি হাসপাতালের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বী।

তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, যদিও সৌদি-ফেরৎ ওই মহিলা ইতোমধ্যে ২১ দিন পার করেছেন। এতদিন পর তার শরীরে ভাইরাসের অস্তিত্ব না থাকারই কথা। তবুও আগামি ২-১ দিনের মধ্যে তাকেও আমরা নমুনা পরীক্ষার আওতায় আনবো।