
রিপন মারমা, কাপ্তাই : চিৎমরম উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পর একটি সাফল্যে আনন্দে আত্মহারা চিৎমরম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ম্যানেজিং কমিটি, অভিভাবকসহ সমগ্র এলাকাবাসী। রোববার প্রকাশিত এসএসসির ফলাফলে একজন সাদিয়া ইসলাম সকলের মুখ উজ্জল করেছে।চিৎমরম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরে ইতিহাসে সাদিয়া ইসলাম প্রথম বারে মতো জিপিএ-৫ অর্জন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।
এই সাদিয়া ইসলাম কে? চিৎমরম বাজারে অসচ্ছল চা-দোকানি সেকান্দর মিয়ার ১ ছেলে ২ মেয়ের মধ্যে সাদিয়া ইসলাম মেঝো মেয়ে।নুন আনতে যেখানে পানতা ফুরায়, সেখানে সেকান্দার মিয়া এবং তার স্ত্রী ফরিদা খানম তিন ছেলে-মেয়েকে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করেননি। তার বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম কর্ণফুলী সরকারি ডিগ্রি কলেজে স্নাতক ১ম বর্ষে অধ্যায়নরত এবং ছোট মেয়ে সুমাইয়া ইসলাম চিৎমরম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ম শ্রেণীতে পড়ছে।
সাদিয়া ইসলামের মা ফরিদা খানম জানান, তার স্বামী-দেবর মিলে চিৎমরম বাজারে শেয়ারে একটি চায়ের দোকান করেন।সারা বছর সংসারের টানাপোড়েন থাকলেও তিনি ছেলেমেয়েকে লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত করেননি।অর্থের অভাবে বাড়তি প্রাইভেট টিউটর দিতে না পারলেও সাদিয়া পড়ালেখায় ছিলো মনোযোগী।অন্যান্য পরিবারে ছেলে মেয়েদের মতো সন্তানদের বাড়তি চাহিদা পূরণ করতে পারেননি তিনি।এরপরও ছেলেমেয়েরা চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে নিজ তাগাদায়, নিজ ইচ্ছায়।
মেয়র বাধভাঙা আনন্দের ফলাফলে চিৎমরম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, পরিচালনা কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
চিৎমরম উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অংসুইছাইন চৌধুরী সাদিয়া ইসলামের এমন সাফল্যে দারুণ উচ্ছ্বসিত; তিনি বলেন, সাদিয়া ইসলাম সমগ্র চিৎমরমবাসীর মূখ উজ্জ্বল করেছে।তার ভবিষ্যৎ পড়ালেখার জন্য যত রকম সহযোগিতা লাগবে পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। অনন্য এ সাফল্যের জন্য সাদিয়াকে সংবর্ধিত করা হবে বলেও জানান তিনি।
চিৎমরম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ক্যসুপ্রু মারমাসহ শিক্ষকবৃন্দ এমন ফলাফলের জন্য সাদিয়া ইসলামকে অভিনন্দন জানান এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।