মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথের অপেক্ষা

| প্রকাশিতঃ ১০ জুলাই ২০২১ | ৯:১৪ অপরাহ্ন


খেলাধুলা ডেস্ক :
ফুটবলের লড়াই মানেই টানটান উত্তেজনা, ফুটবলের লড়াই মানেই আবেগ-অনুভূতি এবং ভালোবাসা। আর লড়াইটা যদি বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের মধ্যে হয়, তাহলে তো কোনো কথাই নেই। এমনই এক রোমাঞ্চ উপভোগ করতে যাচ্ছে ফুটবলবিশ্ব। কোপা আমেরিকা ফুটবল টুর্নামেন্টের এবারের আসরে ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সময়ের অন্যতম সেরা এই দুদল। ব্রাজিল-আজেন্টিনা মধ্যকার এই মহারণ অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায়।

ইউরোপে যখন ইতালির বিপক্ষে ৫৫ বছরের শিরোপা–খরা কাটানোর লড়াইয়ে নামবে ইংল্যান্ড, তার আগে একই দিনে কোপায় মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা।

একই দিনে দুই দেশে জমজমাট দুটি ফুটবল লড়াই। অথচ বেশির ভাগ মানুষই মজে থাকতে চাইবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচের রোমাঞ্চে। যে লড়াইয়ের শুরুটা হয়েছিল ১০৭ বছর আগে। ১৯১৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দুই দলের ফুটবল মাঠে দেখা হয়েছিল প্রথমবার। সেই থেকে ফুটবলের এই জনপ্রিয় দ্বৈরথ আজও চলে আসছে। আর বিশ্ব ফুটবলে দুই দলই একটু একটু করে নিজেদের তুলে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। দুই দল মিলিয়ে এ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতেছে সাতবার।

আগামীকাল আবারও দুই দল মুখোমুখি হবে কোপার ফাইনালে। এই দুই দলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ—মাঠে মুখোমুখি হবেন নেইমার ও মেসির মতো দুজন বিশ্বসেরা ফুটবলার।

এ পর্যন্ত ১৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড সঙ্গী করে আগামীকাল ভোরে মারাকানা স্টেডিয়ামে ফাইনালে নামবে আর্জেন্টিনা। ব্রাজিলও কম যায় না। কোপার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ২০১৯ সালে নভেম্বরে সর্বশেষ হেরেছিল একটি প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে। এরপর থেকে ব্রাজিল রয়েছে অপরাজিত।

এই ম্যাচে জয়–পরাজয়ে মেসি হয়ে উঠতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ। অন্তত এমনটাই মনে হয়েছে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রিচার্লিসনের, ‘ব্যাপারটা আমাদের ভালো না লাগলেও মানতে হবে যে তাদের রয়েছে বিশ্বের সেরা ফুটবলার (মেসি)। সুতরাং জমজমাট এক লড়াই হবে। আমরা জানি, আর্জেন্টিনাকে হারানো কত কঠিন। এটা শুধু এখন নয়, অতীতেও একই রকম হয়েছে। এটাও জানি যে মারাকানায় তাদের হারানো কতখানি কঠিন হবে।

এবারের কোপা কলম্বিয়া ও আর্জেন্টিনায় আয়োজন করার কথা ছিল কনমেবলের (দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল সংস্থা)। কিন্তু করোনার কারণে এটা সরিয়ে ব্রাজিলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্বাগতিক হওয়ার বাড়তি সুবিধাটা নিশ্চিত আবারও নিতে চাইবে ব্রাজিল। দুই বছর আগে কোপায় সেমিফাইনালে ব্রাজিল ২-০ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। ওই ম্যাচে রেফারির এক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল, যা নিয়ে ওই সময় পুরো আর্জেন্টিনা সমালোচনায় মুখর হয়েছিল।

টুর্নামেন্টটা শুধু আর্জেন্টিনার জন্যই বিশেষ কিছু নয়। আকাশি–নীলদের কিছু দেওয়ার দায় রয়েছে মেসিরও। জাতীয় দলের হয়ে মেসির শোকেসে নেই কোনো বড় টুর্নামেন্টের ট্রফি। সেই দেনা শোধের সুযোগটাও এবার এসেছে মেসির সামনে। সেই ১৯৯৩ সালের পর থেকে আর কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা পায়নি আর্জেন্টিনা। মেসিও যেন একই সুরে বাঁধা!

ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত দুদলের মধ্যে মোট ১০৭টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে নেইমারের দেশটির জয় ৪৩টি ম্যাচে। আর ম্যারাডোনা-মেসির দেশের জয় ৩৯টি ম্যাচে। বাকি ২৫টি ম্যাচ অমীমাংসিতভাবে ড্র হয়েছে। আবার গোলের সংখ্যাতেও এগিয়ে রয়েছে ব্রাজিলই। আর্জেন্টিনার জালে তারা গোল দিয়েছে ১৭৭টি, বিপরীতে হজম করেছে ১৬১ গোল।

অতীত পরিসংখ্যান এবং গোল হিসেবে কোপার এবারের আয়োজকরা এগিয়ে থাকলেও পিছিয়ে নেই দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরাও। ১৯১৪ সালে দুদলের মধ্যকার প্রথম ম্যাচে ৩-০ গোলের জয় ছিল আর্জেন্টিনার। সেই সঙ্গে ১৯৩৭ সালে কোপা আমেরিকায় প্রথম দেখাতেও ব্রাজিলকে ২-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের শিরোপা জয় নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তরা। আবার দুদলের সর্বশেষ দেখাতেও জয় পেয়েছে মেসিরাই।

এদিকে কোপার হিসেব মতেও ব্রাজিলের চেয়ে বেশ এগিয়ে আর্জেন্টিনা। ৩৩ ম্যাচের ১৫টিতেই জিতেছে তারা, ৮ ম্যাচ হয়েছে ড্র, ব্রাজিল জিতেছে ১০ ম্যাচ। এই টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের জালে আলবিসেলেস্তেরা গোল দিয়েছে ৫২টি আর হজম করেছে ৪০টি।